পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য অযাচিত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বাংলাদেশ ইস্যুতে করা মন্তব্য নিয়ে গতকাল নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মুখপাত্র বলেন, ৭ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যের বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করে, এ বিষয়গুলো একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং এ ধরনের মন্তব্য অযাচিত ও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপের শামিল। এ ধরনের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার ভুল প্রতিফলন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখ তা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা আশা করি ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
বাংলাদেশবিরোধী ভারতীয় অপপ্রচার বন্ধে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রফিকুল আলম বলেন, ভারতীয় অপপ্রচার যা আমরা দেখছি তার বেশির ভাগ বেসরকারি পর্যায়ের। এ ধরনের অপপ্রচার সঠিকভাবে মোকাবিলা করা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু এ বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।
ড. ইউনূসের চীন সফর সম্পর্কে মুখপাত্র বলেন, ২৬ মার্চ বিকালে প্রধান উপদেষ্টার চীনের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা। ২৭ মার্চ বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে তিনি বক্তব্য দেবেন বলে আমরা জেনেছি। ওইদিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের বৈঠক হতে পারে। ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। ২৯ মার্চ চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটিতে তিনি বক্তব্য দেবেন। পরে তাঁর বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করার কথা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার বন্দরে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, মাস্টারের আশু মুক্তি ও জাহাজের বন্দর ত্যাগের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্রাসিলিয়ার (ভেনেজুয়েলার সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত) সাহায্যে ব্রাসিলিয়াতে অবস্থিত ভেনেজুয়েলা দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়, দপ্তরসহ জাহাজের স্বত্বাধিকারী ও এর মাস্টারের সঙ্গে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ রক্ষা, জাহাজ ও এর মাস্টারের মুক্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় চলমান রয়েছে। পুলিশ কেসের অগ্রগতির বিষয়ে সার্বিক তথ্য জানতে চেয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারকে ১১ মার্চ পুনরায় কূটনৈতিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।