প্রধান বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর করার জন্য রাষ্ট্রপতির ‘স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা’ বিলোপ করতে মত দিয়েছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। তাদের প্রতিবেদনে আপিল বিভাগে কর্মে সিনিয়র বিচারককেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংস্কার কমিশন মনে করে, বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখার জন্য প্রধান বিচারপতির নিয়োগপ্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ নিয়োগে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রভাবমুক্ত রাখার জন্যই সংবিধানের ৪৮(৩), ৫৫(২) এবং ৯৫(১) অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও অন্যান্য বিচারক নিয়োগে (আপিল বিভাগ, হাই কোর্ট বিভাগের স্থায়ী ও অতিরিক্ত বিচারক) কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছে সংস্কার কমিশন।
আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্য থেকে মেয়াদের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতম বিচারককে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি- এ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অবকাশ থাকে। জ্যেষ্ঠতা বা মেধার বিচার না করে কেবল রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং আনুগত্যের বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নানা সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী/রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর করা জরুরি।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন বলছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর, আর সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স ২৫। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স বা শর্তের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তাই কমিশন মনে করে, হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার বিবেচনায় একজন প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ৪৮ বছর নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৭০ বছর করার প্রস্তাব করছে কমিশন। তবে অবসরের নতুন এই বয়সসীমা প্রস্তাবিত সংশোধনীর আগে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
সুপারিশে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছর সক্রিয়ভাবে আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা অথবা জেলা জজ হিসেবে কমপক্ষে তিন বছর বিচার বিভাগীয় পদে চাকরিসহ বিচার বিভাগে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকার প্রস্তাব করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেওয়া প্রতিবেদনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। ৩৫২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ৩২টি বিষয়ে বিচার বিভাগ সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।