অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল সকালে মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার খোয়াজপুর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইফুল সরদার (৪০), তার আপন ভাই আতাউর সরদার (৩৫) এবং তাদের চাচাতো ভাই পলাশ সরদার (১৭)। পুলিশ, স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের খোয়াজপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কীর্তিনাশা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল সরদার। এনিয়ে হোসেন সরদার নামের প্রতিপক্ষের একজনের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল। এরই জেরে গতকাল ১১টার দিকে খোয়াজপুর সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সামনে সাইফুল সরদারের ওপর হামলা চালায় হোসেন সরদার ও তার লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাইফুলের বড়ভাই আতাউর সরদার, আরেক ভাই অলিল সরদারসহ পরিবারের লোকজন তাদের রক্ষা করতে আসেন। পরে প্রাণ রক্ষা করতে তিন ভাই দৌড়ে মসজিদের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাদের টেনেহিঁচড়ে ও কোপাতে কোপাতে বাইরে বের করা হয়। প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় ঘটনাস্থলেই আপন দুই ভাই সাইফুল সরদার ও আতাউর সরদার মারা যান। চাচাতো ভাই পলাশ সরদারকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। পলাশ সরদারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো মাসুদ বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নিহতদের ভাই অলিল সরদার (২৮) ও তাজেল সরদার (২৫) গুরুতর আহত হন। তাদের প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া অন্য আহতরা হলেন- নিহত সাইফুল সরদারের স্ত্রী সতি বেগম (২৫), নিহত আতাউর সরদারের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৩০), রোজিনা বেগম (৩৫)। আহতরা মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতদের মা সুফিয়া বেগম বলেন, হোসেন সরদার ও শাজাহান খাঁর লোকজন আমার দুই ছেলেকে হত্যা করেছে। আরেক ছেলের অবস্থাও গুরুতর। এই হত্যার বিচার চাই। নিহতদের বোন হাফিজা বেগম বলেন, আমাদের সব শেষ করে দিল। আল্লাহর ঘরে লুকিয়েও আমার ভাইয়েরা রক্ষা পেল না। তাদের মসজিদের ভিতর থেকে বের করে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের বিচার আল্লাহই করবেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, এই ঘটনায় তিনজন মারা গেছেন। পলাশ সরদার নামে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে।