১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে অনুভব করি সামরিক বাহিনীও প্রতিরোধ যুদ্ধে নেমেছে। মুহূর্তে মনোবল কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আমি তখন আযম খান কমার্স কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমার তিন ভাই যুদ্ধে চলে গেছেন। জুলাইর দিকে সহযোদ্ধা শাহজাহানকে নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে যাই। জাফর ভাই, জোয়াদুর রসুল বাবু, শাহজাহান, নিখিল সাহা, বকুল, রনিসহ আমরা তা ুয়া মিলিটারি ক্যাম্পে দেড় মাস অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিই। মূলত খুব লম্বা সময় মুক্তিযুদ্ধ চলবে সেই প্রস্তুতিটাও নিতে হয়। সেপ্টেম্বরে বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে অস্ত্র নিয়ে ইছামতী নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকি। আশাশুনি, তালা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটার যুদ্ধে বিজয় লাভ করি। কপিলমুণি যুদ্ধে আমার সেজো ভাই গুলিবিদ্ধ হলেন। শত্রুপক্ষের গুলি তার বাম পায়ে উরুতে লাগে। সহযোদ্ধা হিরা নৌকায় করে তাকে বারাকপুর মিলিটারি হসপিটালে নিয়ে যায়। ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আনু মারা গেল।
-বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মণি, সাবেক আহ্বায়ক, খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, অনুলিখন, নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা।