ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় র্যাব-১২ ও বগুড়া জেলা পুলিশ সরকারের মন জয় করতে বিরোধী দল এবং সরকারের বিপক্ষে কথা বলা সুধীজনদের গ্রেপ্তারের নামে গুম করত। পরে তাদের নিয়ে টর্চার করা হতো বগুড়া পুলিশ লাইনসের একটি দোতলা ভবনে। যার বর্তমান নাম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার। এর নিচতলায় গোপন বন্দিশালায় বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ লাইনসে গোপন বন্দিশালা পাওয়ার তথ্য পেয়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এ বন্দিশালায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হতো। গতকাল রাজধানীর গুলশানে কমিশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বগুড়া পুলিশ লাইনসের ভিতরে কারাগারের মতো গোপন বন্দিশালা তৈরি করে রাখা হয়েছিল। যেটি একেবারেই এবসার্ট একটা ব্যাপার। সেটি আমরা বগুড়ায় পেয়েছি।
জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বন্দিশালায় গোপনে রাখা হতো। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আয়নাঘর থেকে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে আয়নাঘর ও বন্দিশালার ভয়াবহতার খবর। বগুড়া পুলিশ লাইনসের ঠিক বিপরীতে ভিটিটিআইর একটি ভবনে র্যাব-১২ বগুড়ার কার্যালয়। সেখানে ক্লাসরুম ও আবাসিক ভবন থাকায় গ্রেপ্তারদের উক্ত বন্দিশালায় নিয়ে আসা হতো।
সোমবার বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদক বগুড়া পুলিশ লাইনসে গিয়ে বন্দিশালার সত্যতা পান। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, এ রকম খবর আমরা শুনেছি। পুলিশ লাইনসের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে দোতলা ভবনে মানুষকে ধরে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালানো হতো।
বর্তমান ভবনটি কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয় ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিগত সরকারের আমলে ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে এ বন্দিশালায় নির্যাতন চালানো হয়েছে বিরোধী ও সরকারের বিপক্ষে থাকা নেতা-কর্মী ও সুধীজনদের।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে শুনেছি। তবে তা দেখিনি।’