বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যাংকের পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পাঁচ থেকে ১০ বছর লাগতে পারে। প্রতিদিনই আমরা দুর্বল ব্যাংকগুলোর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসছি এবং তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পর্যাপ্ত তারল্য সহায়তা দিয়েছে। তবে সম্পূর্ণ ক্যাপিটালাইজ হয়ে রিকভার করতে এসব ব্যাংকের সময় লাগবে।’ গতকাল ইংরেজি পত্রিকা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের কার্যালয়ে ‘পাথ টু রিকভারি ফর ব্যাংকিং সেক্টর’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, ‘আমাদের দেশে যেসব ব্যাংক খারাপ অবস্থা থেকে উঠে এসে ভালো করেছে, তাদেরও মোটামুটি এমন সময়ই লেগেছে। প্রতিদিন ব্যাংকগুলোর ক্যাশফ্লোর ডেটা মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক এ সহায়তা পেয়েছে। আমরা এখন যে গতিতে এগোচ্ছি, তাতে আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই ব্যাংকিং রেজুলেশন অ্যাক্ট করে ফেলতে পারব। আমাদের পরিকল্পনা অনেক বড় ও উচ্চাভিলাষী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্ট্র্যাকচারাল রিফর্মের কাজও গুছিয়ে নিয়ে আসব। ব্যাংক খাতে রিফর্মের শুরুটা আমরা করে দিয়ে যাব, বাকিটা পরবর্তীতে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করবে। যোগ্যতা যাচাইবাছাই ছাড়া ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের বসিয়ে দেওয়া যাবে না। আমরা এসব চাই না। ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে কাউকে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবে। সে সুযোগ ব্যাংকগুলোর রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সুদের হার বাড়িয়েও আমানতে প্রবৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। খেলাপি ঋণের সমাধান করতে হলেও আমানত বাড়াতে হবে। আমাকে ব্যবসায়ীরা ঋণের সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দেবেন আর আমি কমিয়ে দেব! অবশ্যই না। মূল্যস্ফীতি কমলে, মার্কেট-বেইসড ব্যাংকের ঋণ কমলে তখন আমি নীতি সুদহার কমিয়ে দেব। এটা একদম পরিষ্কার। মুদ্রানীতি ততক্ষণ কঠিন থাকবে, যতক্ষণ মূল্যস্ফীতি না কমে।’