রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্রে হঠাৎ ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় ১০০ হোটেল-মোটেলসহ স্থানীয়দের স্থাপনা। গতকাল বেলা ১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। নিরাপদে রয়েছেন পর্যটকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাজেক ভ্যালির একটি রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ও স্থানীয়দের বাড়িঘরে। চোখের পলকে বেড়ে যায় আগুনের ভয়াবহতা। আতঙ্ক শুরু হয় সাজেকে অবস্থানরত পযটকদের মধ্যে। উদ্ধারকর্মীরা যাওয়ার আগেই পুড়ে যায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা। বাতাসের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পল্লীতেও। পুড়ে যায় তাদের ২০টি বাড়িঘর। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে যান খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের অধীন বাঘাইহাট সেনা জোনের সদস্যরা। সহাতায় এগিয়ে আসেন মারিস্যা বিজিবির ২৭ ব্যাটালিয়ন ও বাঘাইহাট বিজিবির ৫৪ ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও। পানি না থাকায় বাড়তে থাকে আগুনের ভয়াবহতা। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় হেলিকপ্টারে পানি সরবরাহ করা হয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। এ ছাড়া গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনী ও আনসারের সদস্যসহ স্থানীয়রা যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। রাঙামাটি সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের সভাপতি সূপনা দেব বর্মণ বলেন, ৫০টির অধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট পুড়েছে। রেস্টুরেন্ট পুড়েছে ৩০টির মতো। এ ছাড়া হেডম্যানের ঘরসহ স্থানীয়দের বাড়ি পুড়েছে প্রায় ২০টি। ১০০-এর মতো স্থাপনা পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ মারা যায়নি। ক্ষতি হয়েছে কোটি টাকার। ঘটনার পর রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান জেলা উপসচিব মো. মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, আগুনে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে মানুষ সুরক্ষিত আছে। নিরাপদে আছেন পর্যটকরা। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তদন্ত করা হচ্ছে। রাঙামাটির বাঘাইহাট সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. খায়রুল আমীন বলেন, সঠিক সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে ভয়াবহতা আরও বাড়ত। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যথেষ্ট চেষ্টা করেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে। তবে পানির উৎস কম থাকায় এত বড় ঘটনা ঘটেছে।