স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের যারা কোনো প্রকার অন্যায়, হত্যা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা যদি জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচন করেন, তাতে কোনো বাধা নেই। গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, সেবা পেতে জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য হলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করা দরকার। তবে এটা একান্তই আমার ‘ব্যক্তিগত’ মত। সরকারই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সরকারের কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে সেই কাজ করতে হচ্ছে। তাতে প্রতিদিনই সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিনই শুনতে হচ্ছে যে ‘প্রশাসক দেন’ কিংবা ‘নির্বাচন দেন’। বিভাগীয় কমিশনাররা কোনো না কোনো সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে আছেন, জেলা প্রশাসকদেরও জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একজন কর্মকর্তাকে যখন দুই-তিনটা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, তখন একজনের পক্ষে কোনোটাই ঠিকভাবে পালন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেই জায়গা থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার মাধ্যমে সেখানে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আসা উচিত।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, আলোচনা এখনো চলমান আছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে হয়নি। তবে খুব দ্রুতই কোনো একটা সিদ্ধান্ত আসবে, হয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন অথবা প্রশাসক (পূর্ণকালীন) নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার রিপোর্ট এসেছে। আন্তর্জাতিকভাবে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা ঘটিয়েছে, সেটি স্বীকৃত এবং ডকুমেন্টেড। সেই জায়গা থেকে এ ধরনের গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের যে নজির আওয়ামী লীগেরও সে রকম অবস্থা হওয়া উচিত। দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের এক ধরনের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত। সেটা কোন প্রক্রিয়ায় হতে পারে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, সেই বিষয়ে সবার মতামতের ব্যাপার আছে। আশা করি এরপর সরকারের একটি সিদ্ধান্ত আসবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ বিক্ষিপ্তভাবে অংশগ্রহণ করে তবে সরকারের অবস্থান কী হবে, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারা পলাতক অথবা জেলখানায় রয়েছে। আমাদের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা আওয়ামী লীগ করেছে কিন্তু কোনো ধরনের অন্যায় অপরাধ কিংবা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত নয় তারা ক্ষমা চেয়ে আবার মেইনস্ট্রিমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। সেই জায়গা থেকে কেউ যদি নির্বাচন করে তাতে বাধা নেই। তবে কেউ যদি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে কোনোভাবেই নির্বাচনে আসতে দেওয়া হবে না।