সাঁড়াশি অভিযান সত্ত্বেও অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজ্ঞাপন-প্রচার শুরু হয়েছে। ‘স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ো এবং ধরপাকড়ের যন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকো। এক্ষুনি নিজ দেশে চলে যাও, অন্যথায় আমরা তোমাকে খুঁজে বের করব এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করবই। এরপর আর কখনোই তুমি যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে না’-এমন বক্তব্যসংবলিত একটি বিজ্ঞাপন সোমবার প্রচারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমের কণ্ঠে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বিভিন্ন দেশের ৩ লাখের বেশি মানুষ মেক্সিকোয় অবস্থান করছে এবং তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার। এ ছাড়া, আরও কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছে চলমান অভিযান থেকে বাঁচার জন্য ভিন্ন ঠিকানায়। তাদের উদ্দেশেই বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার অভিযান শুরুর পাশাপাশি নতুনভাবে যাতে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারে সেজন্য ট্রাম্পের নির্দেশে মেক্সিকো সীমান্তবরাবর ৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্তরক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার হার একেবারে কমেছে। ২০২৩ সালে দৈনিক গড়ে ৫ হাজারের বেশি বিদেশি টেক্সাসে ঢুকে পড়ত। সে সংখ্যা গত জানুয়ারি থেকে কমে ৫০-এ নেমেছে। এর ফলে সেনা মোতায়েনের কোনো সাফল্য দেখছে না খোদ ট্রাম্প প্রশাসনই। অনেকে মন্তব্য করছেন, মার্কিন সেনাদের সীমান্ত পাহারার জন্য অযথা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মেক্সিকোবরাবর ২ হাজার ১০০ মাইল সীমানা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর সিংহভাগই টেক্সাসবরাবর। ডেল রায়ো, ঈগল পাসসহ বেশ কটি এলাকা দিয়ে আগে হাজার হাজার বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেই অ্যাসাইলাম প্রার্থনা করেছে। এরপর এদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় অথবা প্যারোলে মুক্তি দেয় বাইডেন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশে প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্তদের ডেবিট কার্ড দেওয়া হয় খাদ্যসামগ্রী কেনার জন্য। পাশাপাশি থাকার ব্যবস্থা করা হয় হোটেল-মোটেলে ‘জামাই আদরে’। এমন ব্যবস্থায় খোদ সিটিজেনরাও বিরক্ত হয়েছিল। আর সে সুযোগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন তাড়ানো তাঁর নির্বাচনি অ্যাজেন্ডায় অন্যতম প্রধান হিসেবে বেছে নেন এবং তার সুফলও পেয়েছেন নভেম্বরের ব্যালটযুদ্ধে।