ঈদে আসছে জ্বীন-৩ সিনেমা। এ হরর মুভিতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
অভিজ্ঞতা তো চমৎকার। চেনা মানুষ, ইউনিটের সঙ্গে কাজ ছিল। সব মিলিয়ে দারুণ একটি জার্নি ছিল। যদিও আমি অনেক ভীতু প্রকৃতির মানুষ। প্রতিদিন বাসা থেকে দোয়া পড়ে শুটিংয়ে যেতাম। আবার বাসায় এসে দোয়া-দরুদ পড়তাম। এটা আমার জীবনে প্রথম হরর মুভি। তাই আমি মনে করতাম আমার কোনো কিছুতে যেন সেটের কেউ কষ্ট না পায়।
এ ছবিতে ব্যক্তি ফারিয়ার সঙ্গে পর্দার ফারিয়ার রসায়নটা কেমন?
ব্যক্তি ফারিয়া এবং পর্দার ফারিয়ার কোথায় যেন একটা সন্ধি হয়েছে এখানে, ‘জ্বীন-৩’-এর এ চরিত্রে। যা আগে কখনো হয়নি।
সেটা কেমন?
বাইরের দুনিয়ায় গ্ল্যামগার্ল হলেও ঘরে আমি একেবারে বাঙালি কন্যা! আসলে আমার বেড়ে ওঠা একেবারে পারিবারিক পরিমন্ডলে। যে সাইটটা মিডিয়ার মানুষজন জানে না। এবং চাইও না সেটা দেখুক। আমার নিজের ঘরে আমার একটা ‘ভাবি রূপ’ আছে। যে একটা মেক্সি পরে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে- ‘এই ডিমভাজি খাবি? এই আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাবি?’ এটা আমার আরেকটা ভার্সন। এটা শুধু ক্লোজ ফ্রেন্ডরা জানে। আমি খুবই এক্সাইটেড যে, জ্বীন-৩ এ আমার এ অংশটা দেখবে।
বাসায় কি আপনি শুদ্ধ ভাষায় কথা বলেন?
সবাই জানে ফারিয়া প্রমিত ভাষায় কথা বলে। কিন্তু বাসায় আমি পুরোপুরি কুমিল্লার ভাষায় কথা বলি। ‘খাইসতনি, যাইবিনি, কীরে কিতা করস’-অন্য সবার মতো আমরাও আঞ্চলিক ভাষায়ই কথা বলি। এটা অনেকেই বিশ্বাস করে না। আমার আম্মু, খালা কিংবা নানিরা সবাই একসঙ্গে হলে তো একটা কেওয়াটিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ছবির পোস্টারে অন্য এক ফারিয়া...
আবদুল আজিজ একজন মার্কেটিং ম্যাজিশিয়ান। তিনি যখন জ্বীন-৩ এর একটি পোস্টার প্রকাশ করলেন আমি জিজ্ঞেস করলাম- আমি কি জ্বীন সিনেমায়? আপনি কেন দিলেন এটা? যখন আমি নিজেকে দেখলাম তখন বুঝলাম অর্ধেক মানুষ আমাকে চিনতেই পারবে না যে এটা আমার ছবি। সিনেমাতে আমি কি তা একদমই রিভিল করব না। আসলে জ্বীন-৩ এর জন্য আমাকে একটা ‘গার্ল নেক্সট ডোর’ লুকে দেখাতে চেয়েছিলেন পরিচালক। যেভাবে আমাকে কোনো কমার্শিয়াল সিনেমায় দেখা যায়নি। আমি প্রত্যেক সিনেমার আগে একটা ডায়েটে চলে যাই নিজেকে একটা নির্দিষ্ট লুকে পরিবেশন করতে। তবে এ সিনেমার আগে আমি পেট পুরে খেয়েছি। ভাত খেয়েছি। বিরিয়ানি খেয়েছি। বাসা থেকে আমার মার পাঠানো পরোটা, ডিমসহ যেসব খাবার পাঠিয়েছেন সবই খেয়েছি। এ সিনেমার জন্য কোনো স্পেশাল ডায়েটে যেতে হয়নি। কোনো স্পেশাল লুক মেইনটেইন করতে হয়নি।
ইতোমধ্যে ‘কন্যা’ ও ‘ব্যবধান’ গান প্রকাশ পেয়েছে।
রুনা লায়লাকন্যা গানটি শেয়ার করেছেন...
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম তখন। অনেক কেঁদেছিলাম আনন্দে। তার মতো লিভিং লিজেন্ড আমাদের গান শেয়ার করেছেন! আমি খুবই আবেগাপ্লুত। এটি সত্যিই অনেক বড় পাওয়া।
বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে দেশের শিল্পীরা...
এটা খুবই কষ্টকর। এ রকমটা হওয়া ঠিক না। দেশের সংস্কৃতি আমাদেরই বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এ পুরো জিনিসটাকে যারা দেখছেন তারা যদি একটু ঠিকঠাকভাবে জিনিসটাকে মেইনটেইন করেন, আমার মনে হয় খুব শিগগিরই এটাও কমে আসবে। আর সিনেমা বাদেও আমাদের অনেক কাজ আছে। আমরা চাই দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে; এমন জায়গায় যেতে যেখানে দর্শক-ফ্যানরা আমাদের কাছে আসতে পারে।