দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরেনি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের সাত মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্থিতিশীল নয়।
এছাড়া রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। পুরো আর্থিক খাত এখন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। যদিও অর্থনীতি, ব্যবসাবাণিজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে নানা সংস্কার কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে এবার ঈদুল ফিতরে তুলনামূলকভাবে কম কেনাবেচা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ব্যবসাবাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে পাঁচ তারকা শপিং মলের ব্যবসায়ী সবাই বলছেন, দেশের মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ কমে গেছে। এ ছাড়া খরচের বোঝা অনেক বেশি। আবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ভালো নয়। ফলে এবারের ঈদে কেনাকাটা অনেক কম হবে।
এ প্রসঙ্গে চেইনশপ ‘রেইস’-এর স্বত্বাধিকারী জাহিদ আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মানুষ একটা অস্থিতিশীল সময় পার করছে। রাজনৈতিক পরিবেশও স্থিতিশীল নয়। আইনশৃঙ্খলা নিয়েও শঙ্কা আছে। মানুষের আয় রোজগারও কম। অনেকেরও তো আয় বন্ধই হয়ে গেছে। ফলে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর কেনাবেচা অনেক কম হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের যৌথভাবে প্রকাশিত পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) সূচকের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের ব্যবসায় সম্প্রসারণের জানুয়ারির তুলনায় কিছুটা কমেছে। এই সূচক পরিমাপে চারটি খাত বিবেচনায় নেওয়া হয়।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে অর্থনীতি খারাপ অবস্থায় আছে, তা নয়। তিনি বলেন, ব্যবসা-পাতিতে মন্দার কারণ হলো- আয়ের উৎস কিছুটা কম। কর্মসংস্থানও কম হয়েছে। কিন্তু একেবারে যে ধ্বংসের পথে চলে গেছে এমনটি নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এসএমই খাতের ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে বলা হয়েছে।
এছাড়া অর্থনীতির সংকট কাটাতে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আগস্টে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। যেখানে নতুন করে কর্মসংস্থান হচ্ছে না সেখানে আবার অনেকে কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সংস্কারে নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। উপরন্তু এখনো অনেক ব্যবসায়ী সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ডলার সংকটও কাটেনি। ফলে এলসি খোলার ক্ষেত্রে এখনো বাধা রয়ে গেছে। ফলে সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল না হওয়ায় এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে শিল্প খাতে নানা রকম অনিশ্চয়তা। এবার যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনিশ্চয়তা। অনেকেই তাকিয়ে আছেন নির্বাচিত সরকার এলে নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু সে নির্বাচন আদৌ ঘোষিত সময়ের মধ্যে হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ