ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি, সন্তানদের নতুন কিছু দিতে না পারলে বাবা মায়ের যেন শান্তি নেই। এ মার্কেট ও মার্কেটে ঘুড়ে ক্লান্ত শরীরে ফুটপাত মার্কেটেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পণ্য। কমদামে ভাল কিছু কেনার আশায় দূরদূরান্ত থেকে মানিকগঞ্জ মার্কেটে ভিড় করছেন লোকজন।
মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা হতাশ হয়ে এদিক থেকে ওদিক ছুটছেন। কোথাও বাজেটে কেনা যাচ্ছে না কোনটাই। তার পরেও নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা ফুটপাতের মার্কেট।
ঘিওর থেকে দুটি সন্তান নিয়ে আসা নিপা বলেন স্বামী ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি এখনো ছুটি পাননি। কিছু টাকা ধার করে পাঠিয়েছেন ছেলে মেয়েদের জন্য। কিন্তু জামা কিনলে সেন্ডেল হয় না, সেন্ডেল কিনলে জামা হয় না। মার্কেটে দাম বেশি বলে ফুটপাতে ঘুরছি কিন্তু কিনতে পারছি না।
আরেক নারী তিন মেয়েকে নিয়ে মার্কেটে কেনাকাটা করছেন ফুটপাতে। পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করছেন । তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে ঈদের মার্কেট করি এটা এলাকার লোকজন জানে না। কাজেই আমি পরিচয় দিবো না। তিনি আরোও জানান সিংগাইর উপজেলায় আমার বাড়ি একটু কমদামের আশায় শহরে আসলেও কোন কিছু কমদামে পাওয়া যাচ্ছে না। দামের ভয়ে তো মার্কেটের ভিতর যাই না। ফুটপাতই ভরসা। অন্যদিকে স্বচ্ছল ব্যাক্তিরা ব্রান্ডের দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করছেন।
লুসী আর রিপা নামে দুই বান্ধবী মার্কেট করতে এসে জানান সব কেনাকাটা ঢাকা থেকে করা হয়েছে। ঈদ মার্কেট ঘুরতে এসেছি আর ম্যাচিং করে কিছু গহনা, চুড়ি, লিপিস্টিক, নেইলপলিশসহ টুকিটাকি কিছু কেনা কাটা করছি।
শহর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুদ্দিন রেজা বলেন মার্কেটে প্রচুর লোকের সমাগম। সুপার মার্কেট থেকে ফুটপাত কোথাও বেচাবিক্রির কমতি নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী লোকজন কেনা কাটা করছেন। নিরাপত্তার কোন অসুবিধা নেই। এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঈদের দিন যতঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের চাপও তত বাড়ছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল