জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য খোকন কুমার সাহাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শারমিন নিগারের আদালতে তারা জামিন প্রার্থনা করলে শুনানী শেষে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে দুজনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি আঞ্জুমান আরা ও খোকন সাহা হাইকোর্টে আগাম জামিন প্রাপ্ত হন। তাদেরকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন প্রার্থনা করে তারা দুজন আদালতে হাজিরা দেন।
নড়াইলের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কাজী জিয়াউর রহমান পিকুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল সহকারে শহর অভিমুখে রওনা হয়ে চিত্রা নদীর উপর নির্মিত সেতুর পূর্ব পার্শ্বে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শর্টগান দিয়ে ছাত্র-জনতার উপর গুলি বর্ষণ চালায় এবং বোমা নিক্ষেপ করে।
এ সময় বোমা ও গুলির বর্ষণ ছাড়াও দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা হয়। এ হামলার ঘটনায় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা আল মুজাহিদুর রহমান পলাশ বাদী হয়ে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪০০-৫০০জনের বিরুদ্ধে গত ১০ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের চর দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা মো. ওয়াহিদুজ্জামান গত ১৯ সেপ্টেম্বর ৭২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলী আদালতে অপর একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সদর থানায় এটি এজাহার হিসেবে গণ্য হয়। এ মামলায় তারা দুজন জামিন পেতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ