সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি মালবাহী ট্রাকে তল্লাশির সময় এক টহল পুলিশ সদস্যকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চালক। পথে ট্রাকটি একটি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দিয়ে পালানোর সময় চালকসহ দুইজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়ে জনতা। এসময় ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মদনপুর-দিরাই সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখাখালী ইউনিয়নের ভাণ্ডা গ্রামের আজিজ আলীর ছেলে নূরুল আমিন (৩৮) এবং টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ব্রাম্মণখোলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. শাহ আলম (৪০)।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে দিরাই উপজেলার শরীফপুর এলাকায় মদনপুর-দিরাই সড়কে একটি মালবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে টহল পুলিশ তল্লাশি করার উদ্যোগ নেন। এ সময় পুলিশ সদস্য মামুন ট্রাকটিতে উঠে তল্লাশি করছিলেন। আর নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক পুলিশ সদস্য।
তল্লাশির এক পর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকে নিয়েই চলতে শুরু করে ট্রাকটি। এ দৃশ্য দেখে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্য প্রথমে ট্রাকের পেছনে দৌড়াতে এবং চিল্লাতে থাকেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে অবগত করা হয়। পরে সড়কে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ।
এরমধ্যে চলন্ত ট্রাকের পেছন থেকে ৩ জন ডাকাত সদস্য লাফ দিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়। রাত ১ টার দিকে ট্রাকটি শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এসে একটি যাত্রীবাহী কারকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেয়। যদিও সৌভাগ্যক্রমে কারের যাত্রীরা তেমন আহত হননি। এ সময় ট্রাক থামিয়ে ট্রাকের চালক ও হেলপার দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাদের আটক করে শান্তিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন জানান, ওই ডাকাত দল গরু চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধ চুরির পাশাপাশি ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে। পলাতক ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এই ঘটনায় দিরাই থানায় পুলিশের কাজে বাধা দান ও ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি।
বিডি প্রতিদিন/মুসা