সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের দোয়ারাবাজার অংশে পাঁচ বছর আগে বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় দুটি সেতু আর সড়কের অংশ বিশেষ। এর পর থেকে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিন উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার মানুষকে। এদিকে, উল্লিখিত দুটি স্থানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর একটি সেতুর পিলার তোলার পর ঠিকাদার আর কাজ না করে চলে যান। অন্যটির কাজ শুরুই হয়নি লোকেশন সংক্রান্ত জটিলতায়। অনিশ্চয়তায় পড়ে আছে সেতু দুটির নির্মাণ সম্পন্ন করার বিষয়টি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে পৃথক দুটি বন্যার পানির তোড়ে সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের পানাইল ও নোয়াগাঁও এলাকায় ভেসে যায় দুটি সেতু। নোয়াগাঁও অংশে সেতুর সঙ্গে অন্তত ২০০ মিটার সড়কও চলে যায় নদীগর্ভে। এতে জেলা সদরের সঙ্গে সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় জনসাধারণ। প্রাত্যহিক যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাকার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় সড়ক যোগাযোগ না থাকায়। ভাঙনের দুই বছর পর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দুটি স্থানে প্রায় ৮ কোটি করে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নোয়াগাঁও এলাকায় সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর বছর খানেক পর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। আর পানাইল এলাকায় লোকেশন সংক্রান্ত জটিলতায় থমকে আছে কাজ। এর পর থেকে দুটি সেতু নির্মাণকাজ ঝুলে থাকায় ভোগান্তি শেষ হয়নি স্থানীয়দের। সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, নোয়াগাঁও এলাকায় সেতুর নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এটি অন্য কোনো প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না করায় অসমাপ্ত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর শিগগিরই কোনো প্রকল্পে ঢুকানোর আশা করছি। নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। তিনি আরও বলেন, অন্য সেতুটির গার্ডার নির্মাণের জন্য ঢাকা থেকে টিম এসে স্থান নির্বাচন করে দিলে কাজ শুরু সম্ভব হবে।