হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেট। একদিনে প্রায় একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, বুধবার (২ এপ্রিল) নগরীর ধোপাদীঘিরপাড় এলাকায় মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা। ১৫/২০ জনের একটি দল নিষিদ্ধ সংগঠন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল বের করে। ব্যানারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ছবি ছিল এবং তার নামে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওটি আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড পেজেও আপলোড করা হয়। এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের পরপর হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেট। সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা তাদের বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকাস্থ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বাসায় সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন মিছিল সহকারে এসে ঢুকে পড়ে। এসময় তারা বাসার সিসি ক্যামেরা, ল্যাপটপ ভাঙচুর করে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। একইভাবে হামলাকারীরা বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। শুনেছি বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা এই হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক দুই কাউন্সিলরের বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৭ ও ৩২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নগরীর মেজরটিলা এলাকায় অবস্থিত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট সরকারি কলেজ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদের বাসায় বাসায় হামলা চালানো হয়। এদিকে, একই সময়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের বাসায়ও হামলা চালানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, সাবেক কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের বাসায় হামলার খবর পেয়েছি। তবে কে বা কারা হামলা করেছে তা এখনো জানা যায়নি।
শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) রসুল সামদানী আজাদ আপেল বলেন, সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদের বাসায় হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ