‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের গণপদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকনটিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশের সঙ্গে পদযাত্রাকারীদের হাতাহাতি হয়। এতে আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি মারধরে রমনা থানার এসিসহ দুপক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে দেশে অব্যাহত খুন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং দ্রুতবিচার ট্রাইবুনাল গঠন করে দেশের সকল ধর্ষণকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে গণপদযাত্রা এবং স্মারকলিপি প্রধান কর্মসূচি শুরু করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী।
পদযাত্রাটি বিকাল আড়াইটা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়। পরে শাহবাগ হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে আসলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। মিছিলে তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের পদত্যাগ চেয়ে একাধিক স্লোগান দেন।
লাঠিচার্জের পর এই নেতাকর্মীরা আধঘণ্টা ধরে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করেন এবং হামলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ফিরে আসেন।
লাঠিচার্জের পর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অদৃতা রয় বলেন, মিছিলের সামনের সারিতে নারীরা ছিল। এখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পুলিশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে। রমজান মাসে আমাদের নারীদের পোশাক ছেড়া হয়েছে। লাঠিচার্জ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী সীমা আক্তার বলেন, পুলিশ কোনো কথা না বলেই আমাদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে।
ঘটনাস্থলে থাকা রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, তারা পদযাত্রা করার কথা বলেছেন, আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে তারা বাসভবনের দিকে ঢুকে যাওয়ায় আমরা বাধা দিই এবং বলি আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে পাঁচজন প্রতিনিধি পাঠান। এতে তাদের একটা পক্ষ রাজি হলেও আরেকটা পক্ষ ব্যারিকেড ভাঙতে শুরু করে, আমাদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি হচ্ছিল। আমরা কোনোভাবেই লাঠিচার্জ করিনি।
তিনি বলেন, আমাদের রমনা থানার এসিকে তারা ব্যাপক আকারে পিটিয়েছে। তার জামা ছিঁড়ে গেছে। আমাদের কিন্তু হাতে লাঠি ছিল না। আমরা টিয়ারশেল, সাউন্ডগ্রেনেড কিছুই ছুড়িনি। এ অবস্থায়ও তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারপরও আমাদের সাত আটজন আহত হয়েছে। কয়েকজন বেশ গুরুতর আহত হয়েছে।
ডিসি মাসুদ আলম আরও বলেন, তাদের সঙ্গে কথা ছিল- পাঁচজন প্রতিনিধি যাবে, আমরা তো বাধা দিইনি। কিন্তু এ জায়গাটা প্রটেকশনের আওতাধীন, এজন্য সবাইকে যেতে দেইনি। কিন্তু তারা শোনেনি। এরপরও আমরা ধৈর্য সহকারে ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের যেতে দিইনি এটা আমাদের অপরাধ। কিন্তু তাদের যেতে দিলে আমার আর চাকরি করার দরকার নেই।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত