রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের বিখ্যাত আগুন পাখি উপন্যাস অবলম্বনে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তীর্থক নাটকের আয়োজনে টিএসসিসি অডিটোরিয়ামে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।
নাটকের প্রারম্ভে একজন রক্ষণশীল গ্রাম্য নারীর জীবন সংগ্রামের দিক তুলে ধরা হয়েছে। আর দশজন গ্রাম্য নারীর মতো চার দেওয়ালের মাঝেই আবদ্ধ তার জীবন। স্বামীকে নিয়ে স্বল্পবয়স্কা মেয়েটির মুগ্ধতার শেষ নেই। কাছ থেকে সে দেখে সংসারের ক্রমোন্নতি, ধনে-জনে-মানে-শস্যে-সম্পদে ধীরে ধীরে পরিবারটির শ্রীবৃদ্ধি। তুমুল সুখের মধ্যে হঠাৎ শোনা যায় বিশ্বযুদ্ধের রণভেরী। টান পড়ে নিত্যকার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির জোগানে। এর মধ্যেই একসময় দেখা দেয় কলেরা-বসন্তের প্রাদুর্ভাব। অতিবৃষ্টিতে পরপর ঘটে ফসলহানি। দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে একান্নবর্তী পরিবারই ভেঙে হয় ছত্রখান। এ আকাল কাটতে না কাটতেই আসে নতুন আরেক সমস্যা। ভ্রাতৃপ্রতিম হিন্দু মুসলমান অবতীর্ণ হয় ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে। যারা এতদিন পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছে বিপদে আপদে, তারাই রামদা, ছুরি নিয়ে লিপ্ত হচ্ছে মারামারিতে। ভ্রাতৃত্বের পরাজয় হয় সাম্প্রদায়িকতার কাছে। ভাগ হয় ভারতভূমি।
নাটকের শেষে কর্তা পরিবারটি নিয়ে পাড়ি দিতে যান পাকিস্তানে, কিন্তু সবাইকে অবাক করে বেঁকে বসেন পরিবারের বধূ। তিনি থেকে যেতে চান শ্বশুরবাড়ির ভিটেতেই। স্বামীর রক্তচক্ষু, পুত্র-কন্যার আবেগ-বিহ্বল অশ্রম্ন- কিছুই নিরস্ত করতে পারে না তাকে। দেশভাগের ভ্রান্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে নিজের অজান্তেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন তিনি। এই প্রতিবাদ কেবলই নিজের জন্য, আপন অস্তিত্বের জন্যে। এভাবেই একটি পরিবারের উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে গোটা সমাজের উত্থান-পতনের চিত্র তুলে ধরে নাটকটি শেষ হয়।
ড. তুহিন ইমরুলের নির্দেশনায় নাটকে অভিনয় করেছেন নাছিম আহমেদ, তমা পাল, মৌসুমী খাতুন, আনোয়ার হোসেন, আমিনুল ইসলাম ও
সাগর হ্লাথোয়ছা।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল