বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অবরোধসহ নানা পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বাংলাদেশ বিমান কেবিন ক্রু ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সদস্য। তাদের মধ্যে ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক কেবিন ক্রু মামুনুর রশিদ জুবিনকে সব ফ্লাইট থেকে গ্রাউন্ডেড (অপসারণ) করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হত্যা মামলা। ছাত্র হত্যা ও হত্যাচেষ্টার আসামি এই জুবিন যে কোনো মুহূর্তে বিমানের ফ্লাইট ডিউটি নিয়ে ইউরোপ, কানাডা অথবা অন্য যে কোনো দেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে অপসারণ করা হয়। আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বিমানের সূত্র এ তথ্য দিয়ে বলেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক বেশ কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে বিমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশ বিমান কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আক্তার লোটাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের সাবেক ছাত্রলীগের ভিপি ছিলেন। যুগ্ম সম্পাদক শেখ জুবায়ের রহমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম বরকত হলের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিলেন। তাদের নেতৃত্বেই চলছে বিমানের কেবিন ক্রুর সংগঠন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ সংগঠনের নেতারা বিমানকে সোনা চোরাচালানের বাহনে পরিণত করেছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা বিমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। বাংলাদেশ বিমান কেবিন ক্রু ইউনিয়নের ব্যানারে আন্দোলন কর্মসূচির পরিকল্পনা নেয়। গত ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সভার নামে বিমানের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে তাদের ওই সাধারণ সভার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এক মাস পর আবারও সংগঠনটি সাধারণ সভার আয়োজন করেছে। আগামীকাল ১৪ ও পরশু ১৫ মার্চ বিমানের বিবিসিসিইউ কার্যালয়ে এ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সভায় সরকারবিরোধী নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বিমানের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় ফ্যাসিস্ট সরকারের আজ্ঞাবহ এ ইউনিয়নটি সাধারণ সভা করার অনুমতি পেয়েছে। বিমানের ফ্লাইট অবরোধসহ বেকায়দায় ফেলতে বাংলাদেশ বিমান কেবিন ক্রু ইউনিয়ন এ সাধারণ সভার আয়োজন করেছে বলে সূত্র জানায়।
জানা গেছে, কেবিন ক্রু ইউনিয়নের বর্তমান পরিষদের প্রেসিডেন্ট শেখ ফিরোজ মিয়া আবিরের আবেদনে বিমান কর্তৃপক্ষের সম্মতি থাকায় ইতোমধ্যে সাধারণ সভার বিজ্ঞপ্তিও জারি করেন সাধারণ সম্পাদক শামিম আক্তার লোটাস। ২০২৩ সালে নির্বাচিত হয়েই বিমান আয়োজিত সভায় বিমানে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার দৃঢ় ঘোষণা দেন আবির। সেই আবিরের আবেদনেই আকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বিমানে।
সূত্র জানায়, ফ্যাসিবাদী শাসন পতনের পূর্বদিন ৪ আগস্টে শতাধিক ছাত্র-জনতা হতাহত হওয়ার দিনেও ৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মদিন পালনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে ফিরোজ মিয়া আবির ও শামিম আক্তার লোটাস। তখন তারা সাধারণ ক্রুদের রোষানলে পড়েন। ইতোমধ্যে পরিষদের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ জুবিন ঢাকা এবং মাগুরায় একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন। সাইফুজ্জামান শেখরের ভাগনে পরিচয়ে এই জুবিন শেখ রেহানার বিভিন্ন ফ্লাইটের অপরিহার্য ক্রু ছিলেন।
সূত্র জানায়, ’২৪-এর ছাত্র আন্দোলন দমনে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ করে হত্যা পরিকল্পনা ও হত্যাচেষ্টায় এ পর্যন্ত দুটি মামলার আসামি হয়েছেন জুবিন। প্রথম মামলায় প্রধান আসামি পলাতক সাবেক এমপি মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ ৬২ জন সেখানে জুবিনের অবস্থান ৪৭ এবং দ্বিতীয় মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনাসহ ১৫৪ জন। সেই মামলায় জুবিনের অবস্থান ৭৪ নম্বর।