আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের উদ্দেশে কামাল আহমেদ মজুমদার জানান, তিনি আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবেন না। কামাল মজুমদার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের শিল্প প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কাফরুল থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। এ সময় তিনি এ কথা বলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় কাফরুল থানায় দায়ের করা মামলায় সালমান এফ রহমান ও কামাল মজুমদারসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেপ্তার দেখানো অন্যরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও অপর সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর থানার আরেক হত্যা মামলায় আনিসুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের আদালতে তোলা হয়। এ সময় সবার দুই হাতে হাতকড়া লাগিয়ে পিছমোড়া করে বাঁধা হয়।
আসামিদের কাঠগড়ায় তোলার কিছু সময় পর ১০টা ৭ মিনিটে আদালতের এজলাসে আসেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের উদ্দেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আমাকে ডিজিটাল কোরআন ও ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্র দিচ্ছে না। আমাকে ডিজিটাল কোরআন, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্র দেওয়া হোক। তিনি বলেন, আমার ৭৬ বছর বয়স। আমি ডায়াবেটিসের রোগী। চোখের ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করব না। এরপর কাঠগড়া থেকে নামার সময় কামাল মজুমদার সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, রাজনীতি থেকে একেবারে অব্যাহতি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি। আমার দলীয় কোনো পদ নেই। কাফরুল থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ওপর শুনানি শেষে কাঠগড়া থেকে সব আসামিকে একে একে নিচে নামানো হচ্ছিল। তবে বিপত্তি বাধে পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হককে নামানোর সময়। তখন শহীদুল হক আদালতের পুলিশ পরিদর্শক ফারুককে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি তার শ্যালকের সঙ্গে দেখা করতে চান। তবে তার এ আবেদনে সায় দেননি পুলিশ পরিদর্শক ফারুক। ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে উদ্দেশ করে ধমক দেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হক।
এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা শহীদুল হককে বলেন, যার সঙ্গেই কথা বলেন না কেন, আদালতের অনুমতি নিতে হবে। পরে শহীদুল হক আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘পুলিশের জন্য কী না করেছি।’