অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে, তার পরও তারা দেশটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’
গতকাল বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির এ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা তো সব সময় থাকে। একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে আনসেটেল করার জন্য। এটা তো সব সময় থ্রেট আছেই। প্রতিক্ষণেই আছে, প্রতি জায়গাতেই আছে। কাজেই এটা তো সব সময় থাকবে।’ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ফাটলের বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ?‘রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে অনেক তফাত আছে। কিন্তু তার মানে এই নয়, ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরেছে। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে নাই।’
ছাত্রদের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কোনো সহায়তা করে না। যে রাজনীতি করতে চায়, সে নিজেই ইস্তফা দিয়ে চলে গেছে। তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি ছিল সরকারের ভিতরে। যিনি রাজনীতি করতে মনস্থির করেছেন, তিনি ইস্তফা দিয়ে সরকার থেকে চলে গেছেন। উনি প্রাইভেট সিটিজেনশিপে রাজনীতি করবেন, কার বাধা দেওয়ার কী আছে?’ দেশের পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অর্থনীতি সহজ করেছি। দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করেছি। এটা পরিষ্কার- সারা দুনিয়ায় আমরা আস্থা স্থাপন করতে পেরেছি। এটা কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না যে আমি অমুক দেশের আস্থা অর্জন করতে পারিনি। যে দেশেই বলুন, তারা আমাদের ওপর আস্থা স্থাপন করেছে। তারা বলছে আমরা অতীতে যা করি নাই তার চেয়ে বেশি করব এখন, যেহেতু আমরা দেখছি যে সুন্দরভাবে সরকার চলছে এখন।’ দেশে অপরাধ বাড়েনি, আগের মতো আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ আক্রমণ (মব) বাড়া প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘চেষ্টা করছি আমরা। প্রথম দিকে সমস্যা ছিল, যে পুলিশ বাহিনী, যাদের দিয়ে আমরা কাজ করাচ্ছিলাম, তারা ভয়ে রাস্তায় নামছিল না। দুই দিন আগে তারা এদের গুলি করেছে। কাজেই মানুষ দেখলেই সে ভয় পায়। তাকে ঠিক করতে করতেই আমাদের কয়েক মাস চলে গেছে। এখন মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। এখন আবার নিয়মশৃঙ্খলার দিকে আমরা রওনা হয়েছি। কাজ করতে থাকব।’ অনেক কিছু চাইলেও করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা তো অনেক। রাতারাতি দেশ পরিবর্তন করতে চাই। সেটা তো আমরা পারিনি। সময় লাগবে। আমরা চেয়েছিলাম, এখনই সংলাপটা শুরু করব। এটাও পারিনি। সংলাপ শুরু হতে হতেও দেরি হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো সময়মতো করতে চেয়েছি, ওই সময়ে করতে পারিনি। আমরা অনেক সংস্কার কমিশন করেছি। আমাদের ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনের রিপোর্ট দেওয়ার কথা। তারা দিতে পারেনি। আমি অভিযোগ করছি না। কারণ, বিশাল একটা কাজ। আরেকটু সময় চেয়েছে-এক মাস, দুই মাস। ওইটুকু একটু পিছিয়ে গেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে সেনাবাহিনী শুরু থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করছে বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।