গ্রামীণফোনের (জিপি) চাকরিচ্যুতদের আন্দোলনে জলকামান ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় চার নারীসহ অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। গতকাল বিকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় জিপি হাউসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকাল ৩টা থেকে ‘চাকরিচ্যুত ও অধিকার বঞ্চিত গ্রামীণফোন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। দুই শতাধিক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিকাল ৪টার দিকে হঠাৎ পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। এদিকে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের আন্দোলন সামাল দিতে জিপি হাউসের ভিতরে ও বাইরে পুলিশের পাশাপাশি অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহাল এবং প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার ৫ শতাংশ পাওনার বিলম্ব জরিমানা দিতে হবে। গ্রামীণফোন একটি দানব প্রতিষ্ঠান। কোনো নোটিশ ছাড়াই ইমেইলের মাধ্যমে কর্মীদের একদিনের মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোম্পানির মুনাফার ৫ শতাংশ পাওয়ার ন্যায্য অধিকার আমাদের। আমরা এই অধিকার চাই। এ সময় আন্দোলনকারীদের ‘এক দফা এক দাবি, ৫ শতাংশ কবে দিবি’, ‘জিপি ম্যানেজমেন্টের দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’, ‘ম্যানেজমেন্টের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘গ্রামীণফোনের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘বকেয়া না দিলে, পিঠের চামড়া থাকবে না রে, ‘জিপি হাউসে হচ্ছে দেখা, নিতে হবে পাওনা টাকা’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।আন্দোলনকারী মোবাশ্বের আহসান ও আফরোজা বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ হঠাৎ চড়াও হয়। জলকামান ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আমরা গ্রামীনফোনকে জিরো থেকে হিরো বানিয়ে দিয়েছি। আমরা ন্যায্য পাওনা চাওয়ায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। কয়েকজনকে আহত এবং আটক করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সবাইকে মুক্তি এবং আমাদের ন্যায্য পাওনা দিতে হবে। ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।