রাজনীতিকদের গোপন তথ্য জানতে প্রায় তিন দশক ধরে বহু নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা পুলিশ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান'এর অনুসন্ধানে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।
গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কোনো দল বা ব্যক্তির ওপর নজরদারি করতে খুঁজে বের করা হতো তাঁদের নারী বন্ধু, সহকর্মী বা পরিবারের নারী সদস্যদের। এরপর নিজের পরিচয় গোপন করে টার্গেট করা ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতেন পুলিশ সদস্যরা। এমনকি যৌন সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়তেন।
সম্প্রতি জ্যাকি নামে ভুক্তভোগী এক নারী মুখ খুলেছেন গার্ডিয়ানের কাছে। তিনি বলেন, বব ল্যামবার্ট নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। তাঁদের সন্তান জন্মের পর হঠাৎ বিদেশ চলে যান বব। বলে যান, এই মুহূর্তে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারলে তাঁকে গ্রেপ্তার হতে হবে। সেই ঘটনার ২০ বছর পর জ্যাকি জানতে পারেন তাঁর সন্তানের বাবা নিজেই পুলিশ।
এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত প্রতারিত নারীর তথ্য পেয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বয়ান ও স্বাধীনভাবে তদন্তের পর এই ইস্যু নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সিরিজ ‘স্পাই কপস’ প্রচার শুরু করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি। আর এরপরই এ নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সরকারি মদদে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ঘৃণ্য বলে আখ্যা দিচ্ছেন নেটিজেন ও বিশ্লেষকেরা। এ ইস্যুতে ব্যাপক জনরোষের মুখে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য হয়েছে ব্রিটেন সরকার।
ব্রিটিশ পুলিশও স্বীকার করেছে এ অভিযোগ। তাঁদের কেউ কেউ জানান, লিঙ্গবৈষম্য আর নারীবিদ্বেষী মনোভাবেরই ফসল এমন অপমানজনক, প্রতারণামূলক ও কৌশলী অভিযান। অভিযানের তদারকিতে থাকা কর্মকর্তারাও এসব জানতেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। মূলত ১৯৬৮ সালে শুরু হয় তদন্তের নামে এই ঘৃণ্য চর্চা। অব্যাহত ছিল ২০১০ সাল পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত জানা গেছে জড়িত ২৫ জন কর্মকর্তার নাম। যাদের মধ্যে দু’জন আবার নারী। দীর্ঘ ৩০ বছরে দু’টি স্কোয়াডের অধীনে ১ হাজারটির বেশি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ওপর এ ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছেন ১৩৯ জন কর্মকর্তা।
সোর্স: দ্য গার্ডিয়ান
বিডি প্রতিদিন/আশিক