অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশাজীবীর মতো দাবি আদায়ের আন্দোলনে সোচ্চার রয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরাও। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ নানা স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি করছে। শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ শতভাগ উৎসবভাতার দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। কয়েক দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনরত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুল সরকারিকরণের দাবিতে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে। এতে তিন শিক্ষকের পা ভেঙে গেছে। এ ছাড়া গতকাল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পদযাত্রা করলে সে পদযাত্রাও হাই কোর্ট মোড়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণসহ ঈদের আগেই শতভাগ উৎসব ভাতা, পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা প্রদানসহ ১০ দফা দাবিতে বিটিএর মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, দেশের সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী দ্বারা। পরিতাপের বিষয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাত্র ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া, ২৫% উৎসব ভাতা এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই একাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড়সম বৈষম্য। এ বৈষম্য দূর করতে হবে সরকারকে। বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের দাবিপূরণে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ঈদুল ফিতরের পর সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন শিক্ষকরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিটিএ সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন জুয়েল।
প্রতিবন্ধী স্কুল এমপিওভুক্তির দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকরা। তবে পদযাত্রাটি হাই কোর্ট মোড়ে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে সেখানে রাস্তায় শুয়ে, বসে আন্দোলন করতে থাকেন শিক্ষকরা। অনেকে সাদা কাপড় পরে এ আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় প্রেস ক্লাব, পল্টন, শাহবাগমুখী সব যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেশ কিছুক্ষণ রাস্তায় অবস্থান করে ফের প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ফিরে যান এই শিক্ষকরা।
জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনরত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেলা ১টার সময় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে চাইলে কদম ফোয়ারা মোড়ে তাঁরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং একটি প্রতিনিধিদলকে স্মারকলিপি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আন্দোলনরত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাতে রাজি হননি। বাধা উপেক্ষা করে সামনে যেতে চাইলে পুলিশ তাঁদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করে। তাতেও ফেরানো যায়নি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের। পুলিশ বাধ্য হয়ে তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশীদ খোকন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশের বেদম পিটুনি ও বুটের আঘাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে তিনজনের পা ভেঙে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয়করণ দাবিতে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। দাবি আদায় পর্যন্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন চলবে।’