সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকতে হবে। গতকাল সকালে রাজশাহী সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে সপ্তম ‘কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করলেন। সেনাপ্রধান আধুনিক যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত থাকতে রেজিমেন্টের সব সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট ১৯৭১-এর পর থেকেই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আগামীতে এই রেজিমেন্টকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সেনাসদর, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, রাজশাহী সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনাপ্রধান পৌঁছলে তাঁকে প্রচলিত সামরিক রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাদন জানানো হয়। আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে তাঁকে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের একটি চৌকশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপর বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠতম অধিনায়ক এবং জ্যেষ্ঠতম মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার সেনাবাহিনী প্রধানকে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ‘কর্নেল র?্যাংক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। তিনি এ রেজিমেন্টের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশে-বিদেশে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের বীর সেনানীসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এই রেজিমেন্টের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সিনহা স্মৃতিফলক উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান : সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গতকাল কক্সবাজারের টেকনাফে বাহারছড়া ইউনিয়নের শ্যামলাপুরে বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্মিত ‘সিনহা স্মৃতিফলক’ উদ্বোধন করেছেন। আইএসপিআর জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শ্যামলাপুরে নিরস্ত্র মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান (অব.) চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
অনুষ্ঠানে ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, মেজর সিনহার মা ও বোনসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।