পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বহুল আলোচিত রাতের ভোটে সহায়তাকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়েছে। গতকাল একযোগে ৩৩ ডিসিকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। এর আগেও ১২ জনকে ওএসডি করেছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিদ বিন হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ৩৩ কর্মকর্তা প্রত্যেকেই ২০১৮ সালে ডিসি হিসেবে ছিলেন। প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ভোট সম্পন্ন করা ডিসিরা দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদীদের সর্বাত্মক সহায়তা করেছেন। স্বৈরাচারের ক্ষমতা প্রলম্বিত করতে তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম মনে করছে, স্বৈরাচার ও তাদের দোসর সাবেক ডিসিরা ‘দেশদ্রোহী’ অপরাধ করেছেন।
গতকাল যাদের ওএসডি করা হয়েছে তারা হলেন- চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান, দিনাজপুরের ডিসি মো. মাহমুদুল আলম, কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভিন, চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস, মাগুরার ডিসি মো. আলী আকবর, বরগুনার ডিসি কবীর মাহমুদ, নেত্রকোনার ডিসি মঈনউল ইসলাম, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, হবিগঞ্জের ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ডিসি হায়াত-উদ-দৌলা খান, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, রাঙামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, রাজশাহীর ডিসি এস এম আবদুল কাদের, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, ভোলার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, সুনামগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, কুমিল্লার ডিসি আবুল ফজল মীর, নওগাঁর ডিসি মো. মিজানুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি ড. কে এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরার ডিসি এস এম মোস্তফা কামাল, মেহেরপুরের ডিসি মো. আতাউল গনি, পঞ্চগড়ের ডিসি সাবিনা ইয়াসমিন ২০১৮ সালে ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সে সময়ে মাহমুদুল আলম, এ জেড এম নুরুল হক, মতিউল ইসলাম চৌধুরী, আবু আলী সাজ্জাত হোসেন, এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।