বগুড়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে গুলিতে নিহত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র জুনাইদ আহম্মেদ রাতুলের পরিবারে এখনও শোক কাটেনি। তাই রাতুলের পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। অশ্রু সিক্ত মা-বাবার চোখ। ঈদের আগে ছেলের স্মৃতি বাবা-মাকে তাড়িয়ে বোড়াচ্ছে বারবার।
রাতুলের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদের আগে রাতুল নতুন পোষাক কিনতো। সঙ্গে আমাকেও নিয়ে যেতো। ওর পোষাক কেনার সময় আমাকে জোর করে শাড়ি কিংবা থ্রি-পিস কিনতে বাধ্য করতো। বাবার জন্যও পাঞ্জাবি কেনার জন্য বারবার বলতো। ওর কথাই আমরা ঈদের কেনাকাটা করেছি। এবার রাতুল নেই। আমাদের ঈদও নেই।’
জানা গেছে, বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে ১৮ জন শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ট রাতুল। বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের দুই সন্তানের মধ্যে রাতুল ছিল ছোট। বড় মেয়ে জেরিন সুলতানার বিয়ে হয়েছে। জিয়াউর রহমান একজন মুদি দোকানি। রাতুল স্থানীয় উপশহর পথ পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট সে বাড়ি থেকে কাউকে না বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার চোখে ও শরীরে প্রায় সাতশত শর্টগানের গুলি ঢুকে থাকে। তাতে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ৪৯ দিন পরে মারা যায় রাতুল। ছেলের শোকে পরিবারের কেউ ঈদের পোষাক কেনেননি। ঈদের আগে ছেলের স্মৃতি বাবা-মাকে তাড়িয়ে বোড়াচ্ছে। ছেলের কথা মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন তারা। শুধু ছেলে হত্যার বিচার দেখতে চায় রাতুলের পরিবার।
নিহত রাতুলের মা রোকেয়া বেগম জানান, রাতুলের পছন্দ ছিল মেরুন রঙ্গের পাঞ্জাবি। সঙ্গে নিতো একই রঙের টিশার্ট। জুতা কিনতে অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে। এই ছিল ঈদে তার কেনাকাটা। কিন্তু এবার ঈদে আমরা কোন কেনাকাটা করিনি। ছেলে ছাড়া ঈদ কেমনে পাড়ি দিবো জানিনা। শুধু ছেলের কথাই মনে পড়ছে।
রাতুলের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, গত ঈদেও পরিবারের ছিল পরিপূর্ণ আনন্দ। কিন্তু এ বছর ছেলে আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে গেছে। সেইসঙ্গে আমাদের ঈদের আনন্দও হারিয়ে গেছে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ