নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার (৮ মার্চ) সকালে নোয়াখালী টাউন হল মোড়ে জেলা শহরের প্রধান সড়কে নোয়াখালী নারী অধিকার জোট এ মানববন্ধন ও সমাবেশ আয়োজন করে।
মানববন্ধনে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়। এ সময় ঘরে, বাইরে, কর্মস্থলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, যানবাহনে সর্বত্র নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মন্তব্য করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো।
সমাবেশে ২০২২ সালে নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষীনারায়ণপুরে নিজ বাসায় ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আক্তার অদিতার মা স্কুল শিক্ষক রেজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়ের খুনি এখনো শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। প্রতিনিয়ত এ লজ্জা ও অপমান নিয়ে আমাকে আদালত আঙ্গিনায় ঘুরতে হচ্ছে। আমি আমার মেয়েসহ সকল নারী ও শিশুর ধর্ষক, খুনিদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শাকিলা পারভীন বলেন, আমাদেরকে আর কতদিন ধর্ষকের বিচার দাবিতে এভাবে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে। ধর্ষক, খুনীরা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বলেই একের পর এক এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাহেদা পারভীন বলেন, আজকে স্বাধীন দেশে ঘরে-বাইরে, কর্মস্থলে, যানবাহনে একের পর এক নারী ও শিশুরা ধর্ষণের শিকার। ধর্ষণের পর নির্মম. নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হচ্ছে নারী ও শিশুদের। এসব ঘটনায় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও যেন অসহায়। লাখো শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারিয়ে আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি। আমরা নারী ও শিশুসহ সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চাই।
নোয়াখালী নারী অধিকার জোটের আহ্বায়ক রৌশন আক্তার লাকি বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নারী, পুরুষ সবাইকে একযোগে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কোন বিকল্প নেই। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না, এমন ভয় আতঙ্কের জনপদ আমরা চাই না। আমরা বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এর আগে নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে নারী অধিকার জোটের ব্যানারে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা জজ আদালত সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়কে পৌঁছে মানববন্ধন করে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিভিন্ন নারী সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ