উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের একমাত্র শিক্ষাঙ্গন অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়। এটি এ জেলাকে দেশে এক নতুন আঙ্গিকে পরিচয় করিয়েছে। পাল্টে যাচ্ছে এ জেলার আর্থসামাজিক চিত্র। শহরে বেড়েছে জমির দাম, তৈরি হচ্ছে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে এ জেলার মানুষ। অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে হাড়িভাঙ্গায় এই অ্যাভিয়েশন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন। ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি এ ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। শুরুতে এ জেলার মানুষের মনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে নানা সংশয় দেখা দিলেও এখন এটিকে ঘিরে আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন তারা। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অদূরে লালমনিরহাট-ঢাকা মহাসড়কে গড়ে উঠেছে হরেক রকমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও গড়ে উঠছে বাজারও। এ বিশ্ববিদ্যালয় একনজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসছেন দর্শনার্থীরা। এ ছোট্ট জেলা অ্যাভিয়েশন সিটিতে পরিণত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের পর এখানকার পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ এশিয়ায় নবমতম। প্রাথমিক পর্যায়ে বিএসসি ইন অ্যারোনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (২০১৯-২০ সেশনে প্রথম বর্ষ, ২০২০-২১ সেশনে দ্বিতীয় বর্ষ, ২০২১-২২ সেশনের তৃতীয় বর্ষ) তিন ব্যাচে ১৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে লালমনিরহাটে নিজস্ব ক্যাম্পাসে ২০২২ সালের ২৬ জুন আনুষ্ঠানিক ক্লাস শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, লেকচারার ও কর্মকর্তাদের জন্য শহরের হাড়িভাঙ্গা এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, এখানে স্নাতক পর্যায়ে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যাভিয়োনিকস বিভাগে পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতি বছর ৩০ জন করে দুই বিভাগে ৬০ শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পান। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে দেওয়া হয় পাঁচটি ডিগ্রি। এগুলো হলো এমএসসি ইন অ্যাভিয়েশন সেফটি অ্যান্ড অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন, এমএসসি ইন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, এমএসসি ইন স্পেস সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, এমএসসি ইন অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট, এলএলএম ইন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস ল।
অ্যারোস্পেস বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মহিমা আলম লোপা বলেন, ‘অ্যাভিয়েশন শিল্পে বিশ্ব অনেক এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক ল্যাব সুবিধা রয়েছে, প্রয়োজনীয় সব সুযোগসুবিধাই পাচ্ছি এখানে। আমরা নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এয়ারক্রাফট, মিসাইল তৈরির স্বপ্ন দেখছি।’ সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা নিয়ে চলতে আরও অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন। ৬৩৮ একর জমিতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৬টি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ডিপিপি একনেক সভায় পাস হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বলেন, ‘সদর উপজেলার হারাটি ও মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ১০টি মৌজার ৬৩৮ দশমিক ৫৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজসহ আবেদনপত্র জেলা প্রশাসনের কাছে জমা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।’