এক সময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর নদে এখন নাব্যসংকট চরমে। নৌযান চলাচল একেবারে বন্ধ হওয়ার পথে। শুষ্ক মৌসুমে পানি এত কমে যায় যে হেঁটেই নদ পার হওয়া যায়। খনন না করা ও নদ প্রতিরক্ষা বাঁধের নামে অপরিকল্পিত ব্লক ফেলানোয় এ হাল বলছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে চরম বিপর্যয় আসতে পারে পিরোজপুরের মানুষের জীবনমানে মনে করেন, সচেতন মহল।
বয়োজ্যেষ্টরা জানান, এক সময়ের প্রমত্তা বলেশ্বর নদ দিয়ে লঞ্চ-স্টিমার-জাহাজ চলত। রাজধানীসহ দেশ-বিদেশের লোকজন নৌপথে এখান থেকে যাতায়াত করত। মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত হাজার হাজার মানুষ। এ নদীর পানি পরিশোধন করে পৌর এলাকায় সুপয়ে পানি সরবরাহ করা হয়। শহরের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, এ নদ এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। ভরাট হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চর জেগে উঠেছে। দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। নৌ-চলাচল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত ব্লক ফেলানোকে এর জন্য দায়ী করলেন তিনি।
শহরের বাসিন্দা রাকিবুল আলম জানান, পিরোজপুর পৌর এলাকায় যে সুপয়ে পানি সরবরাহ করা হয় তা এ নদের পানি পরিশোধন করে। পিরোজপুরবাসীর অর্থনৈতিক-সামাজিক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ নদের প্রাণ ফেরানো জরুরি। নদের পাশের কৃষক নয়ন সাহা বলেন, পানি কমে যাওয়ায় দুই পাড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষি কাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
বাপা পিরোজপুর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ খান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ নদের ভূমিকা অপরিসীম। এ অঞ্চলে ব্যবসা, কৃষি, সুপেয় পানি সরবরাহসহ অনেক কিছু নির্ভর করে এ নদের পানির ওপর। তাই এ নদ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নুসাইর হোসেন বলেন, জরিপ চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে নদী খননের প্রস্তাব পাস হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। তবে অপরিকল্পিত ব্লক ফেলানোর বিষয়ে কোনো কথা না বলতে রাজি হননি তিনি।