জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নে ঝিনাই নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে চার উপজেলার ২ লাখের বেশি মানুষ। এ কারণে এসব এলাকার মানুষ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপারের সময় দুর্ঘটনার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহায় শুষ্ক মৌসুমেও। নদী পাড়ি দিয়ে মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এখানে বড় চ্যালেঞ্জ, থাকে মৃত্যুর ঝুঁকি। সেতুটি নির্মাণ হলে চার উপজেলার সহজ যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নয়ন ঘটবে এ অঞ্চলের কৃষি খাত ও ব্যবসাবাণিজ্যের। বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান। বারবার সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের চান্দের হাওড়া এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ঝিনাই নদী। চান্দের হাওড়ায় একটি সেতু না থাকায় জামালপুর সদর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার সীমানাঘেঁষা এলাকার মানুষের চলাচলের শেষ ভরসা শুধুই নৌকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ চার উপজেলার ২ লাখের বেশি মানুষকে। পরিবহন সমস্যার কারণে এসব এলাকায় উৎপাদিত কৃষপণ্য নদী পাড়ি দিয়ে শহরে বিক্রিতে ঝামেলায় পড়তে হয়। এতে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষক। এ নৌঘাট হয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নদী পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। ভয়ে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে নদী পাড়ি দিয়ে শহরে নিয়ে চিকিৎসা করানো কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই এখানে বড় চালেঞ্জ। রয়েছে মৃত্যুর ঝুঁকিও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু না থাকায় সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে ছেলেমেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে হয় না।
মেষ্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক বাবু জানান, চান্দের হাওড়ায় চার উপজেলার বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার জন্য দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। এখানে ব্রিজ নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পাশের এলাকায়। জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল ত্রিপুরা বলেন, ‘চান্দের হাওড়ায় স্থানীয়রা একটি ব্রিজের জন্য মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিলে আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করি। চার উপজেলার সংযোগস্থল হওয়ায় এ জায়গায় ব্রিজের গুরুত্ব বিবেচনা করে সদর দপ্তরে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবিও বাস্তবায়ন হবে।’