সর্বস্ব হারিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী জয়নগর গ্রামের লোকমান হোসেন (৩৫) নামের এক যুবক। ভাগ্য ফেরানোর আশায় দেড় বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। তবে সেখানে গিয়ে বন্দি হন ‘গেম ঘরে’ (মুক্তিপণের জন্য আটক রেখে নির্যাতন করার জায়গা)। অবশেষে সেই জিম্মি দশা থেকে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন লোকমান।
পরিবারের দাবি, বুধবার মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের দালাল দাদন জমাদ্দারের মাধ্যমে লিবিয়ায় জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
লোকমান হোসেন মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী জয়নগর গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
লিবিয়া ফেরত লোকমান হোসেন বলেন, শাহ আলম নামে একজনকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি বিদেশে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি আমাকে বিক্রি করে দেন আরেক দালালের কাছে। পরে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য শুরুতে ১০ লাখ টাকা দিয়েছি সিলেটের হবিগঞ্জের শিরু ইসলাম নামে এক দালালকে। কিন্তু তিনি আমাকে ইতালি পাঠাননি। আমাকে অনেক নির্যাতন করতেন। পরে বাঁচার জন্য বাড়িতে টাকা চাইতাম। এরপর বাড়ির বসতঘরের জমি বিক্রি করে মুক্তি পেতে মাদারীপুরের দাদন জমাদ্দারকে দিয়েছি ১২ লাখ টাকা।
লোকমান বলেন, মাফিয়াদের কাছ থেকে ৬ জানুয়ারি দালাল দাদন জমাদ্দার নিয়ে আসে তার বাসায়। সেখানে ২০ দিন ছিলাম। এরপর লিবিয়ার মিস্ত্রতা থেকে ত্রিপোলিতে আমার পরিচিত লোকের কাছে পাঠিয়ে দিতে ২৬ জানুয়ারি একটি গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ত্রিপোলিতে যাওয়ার সময় পুলিশ গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। দুই মাস দুই দিন জেলে থাকার পর আইওএমের সহায়তায় দেশে আসি।
জিম্মি অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনায় লোকমান হোসেন বলেন, দালালরা চার-পাঁচজন একসাথে মিলে আমাকে রড, পাইপ দিয়ে পিটিয়েছে। কানে আঘাত করেছে। কান দিয়ে পয়জন বের হয়েছে। এখন ঠিকমতো কানে শুনি না। সমস্ত শরীরে দাগ। পিঠে গর্ত হয়ে আছে। দুই পায়ের নক ফেলে দিয়েছে। হাতের নক প্লাস দিয়ে উঠিয়ে ফেলেছে। হাতুড়ি দিয়েও আঘাত করেছে। আমি যে বেঁচে ফিরব, এটা কখনো ভাবিনি।
লোকমান হোসেনের স্ত্রী রিমি আক্তার জানান, স্বামীকে মুক্ত করার জন্য দালালের বাড়িতে গিয়ে আমরা অনেকদিন থেকেছি। সে নিশ্চিত মুক্তি পেয়েছে, সেটা জেনে সেখান থেকে আমরা এসেছি। আমার স্বামী আজ ১১ মাস পরে দেশে ফিরেছেন। বেঁচে আছেন কিনা, সেটাও জানা ছিল না।
এ বিষয়ে সাপলেজা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কাজল খান বলেন, লোকমান দেশে ফিরেছেন। শুরু থেকে পরিবারটির পাশে ছিলাম। শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লোকমানের এখন ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই