গভীর নলকূপ আছে, কিন্তু পানি ওঠে না। বাড়ির সামনে নলকূপ আছে, কিন্তু ‘লাল চিহ্ন’ দেওয়া। কোথাও পানির কল খুলে কেজি হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও টিউবওয়েল জং ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
এটি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চিত্র। এখানকার গভীর নলকূপে পানি ওঠে না। তাই স্থানীয়দের ভরসা সাবমার্সিবল অথবা কমপ্রেসর। কেবল এ ইউনিয়ন নয়, কোলাগাঁও, জিরি, কুসুমপুরা, জঙ্গলখাইন, এয়াকুবদণ্ডীসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোর প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানির তীব্র সংকটে আছে।
এমন অবস্থায় সরকার ২৫ আগস্ট দেশের কয়েকটি অঞ্চলকে অতি উচ্চ পানিসংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাও আছে।
জানা যায়, পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে আটটি শিল্পকারখানা মেশিনের মাধ্যমে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলন করে ব্যবহার করে। ফলে এলাকার সাধারণ নলকূপ দিয়ে পানি উঠছে না। এ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আদালতে একটি মামলা করে। আদালত সরকারকে জনসাধারণের জন্য পানির বিকল্প ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। তা ছাড়া হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থাপিত ৩৫০টি গভীর নলকূপ বিকল হয়ে পড়ে আছে। ২৪ আগস্ট স্থানীয়রা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওয়াসার মাধ্যমে পানি সরবরাহের আবেদন করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আটটি বৃহৎ শিল্পকারখানা কর্তৃক ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে ইউনিয়নের ৩৫০টি টিউবওয়েল বিকল।
ফলে গ্রামগুলোর মানুষ সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়ে। কারখানাগুলো অনুমোদনবিহীন ও অপরিকল্পিতভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করে ব্যাপকহারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে। তাই পানির এমন সংকটাবস্থায় তারা ওয়াসার ভান্ডালজুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে পানির সংযোগ দেওয়ার আবেদন করেন।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরহানুর রহমান বলেন, ‘পটিয়ার কয়েকটি ইউনিয়নে পানির সংকটের বিষয়টা আমরা জেনেছি। এ নিয়ে সরকার ওই সব অঞ্চলকে অতি উচ্চ পানিসংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে এ ব্যাপারে এখনো সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা কর্মপরিধি আসেনি। এলে আমরা জনস্বার্থে নির্দেশনামতো কাজ করব।’