ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে বন্ধ ছিল যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী ২১ জেলার বাসের রুট পারমিট। একই সঙ্গে বন্ধ ছিল পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী বাসের রুট পারমিটও। তবে প্রভাবশালীদের চাপে এনা পরিবহনসহ কয়েকটি কোম্পানির শতাধিক বাসকে পদ্মা সেতু ব্যবহারের জন্য রুট পারমিট দেয় ডিএসসিসি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এখন রুটপারমিট পেতে যাচ্ছে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার দিয়ে পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী সব বাস। সম্প্রতি এক সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলে ১ হাজার ৪০৭টি বাসের অনুমতি দেয় সংস্থাটি। এরপর আরও ২ হাজার বাসের আবেদন পড়ে। কিন্তু ডিএসসিসির সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস তৎকালীন বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির আহ্বায়ক থাকায় পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী বাসের জন্য রুটপারমিট বন্ধ করে দেয়। কারণ হিসেবে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান এলাকায় যানজট বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপর বিআরটিএ ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসিকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় চলাচলকারী আন্তঃজেলা বাসের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এ রুটে পারমিটের জন্য আড়াই হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে ডিএসসিসির দিকনির্দেশনা চাওয়া হলেও সংস্থাটি উত্তর দেয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর বিআরটিএ এক চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, বাস্তবতার নিরিখে পদ্মা সেতুতে চলাচলকারী রুট পারমিটবিহীন বাস বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহার না করার শর্তে রুট পারমিট দেওয়া যেতে পারে কি না মর্মে ডিএসসিসিকে জানানো যেতে পারে। মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিআরটিএকে অনুরোধ জানানো হয়। এ নির্দেশের ভিত্তিতে বিআরটিএ ২০২২ সালের ২ নভেম্বর ও ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ জরুরিভিত্তিতে মতামত চেয়ে ডিএসসিসিকে দুটি চিঠি দিলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো উত্তর দেয়নি।
তবে এর মধ্যে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর চাপে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে এনা পরিবহন, গ্রিন লাইনসহ কয়েকটি কোম্পানির শতাধিক বাসের রুটপারমিট দেয় বিআরটিএ। তবে এসব পরিবহনের বাইরে পুলিশকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে প্রতিদিন এই রুটে তিন হাজার বাস চলাচল করেছে। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
এদিকে গত ২৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার দূরপাল্লার বাস চলাচলের প্রতিবন্ধকতা নিরসনের বিষয়ে এক সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব। সভায় ডিএসসিসির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার দিয়ে দক্ষিণ পশিচমাঞ্চলগামী বাস চলাচলে ডিএসসিসির কোনো আপত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসি থেকে ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রুট পারমিট না দেওয়ার জন্য যে অনুরোধ জানানো হয়েছিল জনস্বার্থে তা বাতিল করা হলো।
ওই সভায় ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ট্রাফিক) সুফিয়ান আহমেদ বলেন, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার দিয়ে যাত্রীবাহী আন্তঃজেলা বাস চলাচলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো অসুবিধা হবে না।
এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার হয়ে দক্ষিণ অঞ্চলগামী বাসগুলোর রুটপারমিট দেওয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি শিগগির কার্যক্রম শুরু করতে পারব। তিনি বলেন, বিগত সময় বন্ধ থাকায় সরকার মোটা দাগে রাজস্ব হারিয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার হয়ে দক্ষিণ অঞ্চলগামী বাসগুলোর রুটপারমিট দেওয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি শিগগির কার্যক্রম শুরু করতে পারব। তিনি বলেন, বিগত সময় বন্ধ থাকায় সরকার অনেক টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।