প্রায় ১৮ মাস পর সিলেটে ফের টি-২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। গত বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ খেলেছিল। সিরিজটি হারলেও একটি ম্যাচ জিতেছিল টাইগাররা। দেড় বছর পর সিলেটে লিটন বাহিনী তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলতে নামছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। টিউলিপ ফুলের দেশটির বিপক্ষে এর আগে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। এবারই প্রথম ঘরের মাটিতে খেলবে। দুই দল এবার দ্বিতীয়বার সিরিজ খেলবে। লিটন দাস, ফিল সিমন্সের দল সিরিজটি খেলছেন টি-২০ এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে। ৯ সেপ্টেম্বর শুরু টি-২০ এশিয়া কাপ। টাইগারদের ম্যাচ তিনটি যথাক্রমে ১১ সেপ্টেম্বর হংকং, ১৩ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা ও ১৬ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি সিরিজ, কিন্তু টাইগার কোচ এখনই এশিয়া কাপ নিয়ে ভাবতে রাজি নন, ‘এখনই আমি এশিয়া কাপ নিয়ে ভাবছি না। এশিয়া কাপ এ সিরিজের পর। সিরিজটি একটি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে।’ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের ম্যাচগুলো আজ, ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর। সব ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এর আগে ২০১২ সালে প্রথমবার টি-২০ সিরিজ খেলেছিল। দ্য হেগে সিরিজের প্রথম ম্যাচ টাইগাররা জিতেছিল ৮ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচ ১ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা আনে নেদারল্যান্ডস। দুই দল আরও তিনটি ম্যাচ খেলেছে। সব টি-২০ বিশ্বকাপে। ২০১৬ সালে ভারতের ধর্মশালায় বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ৮ রানের কষ্টার্জিত জয় পায় বাংলাদেশ। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার হোবার্টে টাইগাররা জেতে ৯ রানে। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংসটাউনে ২৫ রানে জেতে। মুখোমুখির প্রথম ম্যাচ ছাড়া বাকি চার ম্যাচ জিততে ঘাম ঝরিয়েছে টাইগাররা। এবার ঘরের মাঠে সিরিজ। সিরিজটি খেলছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে। দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত লিটন বাহিনীকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরিষ্কারভাবে ফেবারিট বলা যায়। কিন্তু টাইগার কোচ সিমন্স নিজেদের ফেবারিট ভাবছেন না, ‘আমরা এখানে (সিলেটে) তিনটি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ খেলব। যখন আপনি বলবেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ, সেটার মানে হচ্ছে আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলবেন। নেদারল্যান্ডস শেষ দুটি টি-২০ বিশ্বকাপে খেলেছে এবং ভালোও করেছে। বিশ্ব ক্রিকেটে কাউকে ছোট করার সুযোগ আমি দেখি না। সবারই জয়ের সুযোগ আছে।’
টি-২০ ক্রিকেটে কোনো দলকেই ছোট করে দেখার নেই। এর প্রমাণ লিটন বাহিনী পেয়েছে আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজে। প্রথম ম্যাচ জেতার পরের দুটি হেরে যায়। টাইগার কোচ মনে করেন, যে কোনো দলের বিপক্ষে খারাপ খেললে হারতে হবে। সমালোচনাকে তখন মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারি, তখনো সমালোচনা হবে। র্যাঙ্কিংয়ে নিচে থাকা দলের কাছে হারও তাই খারাপ কিছু নয়। কারণ আমরা যদি নির্দিষ্ট দিনে ভালো না খেলি, সমালোচনা আমাদের প্রাপ্য। যদি ভালো খেলার পরও তারা আমাদের হারায়, তাহলে যোগ্য হিসেবেই হারাবে।’ অধিনায়ক লিটন দাস আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব পাওয়ার পর টি-২০ সিরিজ খেলেছে আমিরাত, পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি। ১২ ম্যাচে জয় পাঁচটি এবং হার সাতটি। এবার পঞ্চম সিরিজ খেলবেন। সিরিজটি জয়ের জন্য খেলবেন টাইগার অধিনায়ক লিটন, ‘অবশ্যই যে কোনো ম্যাচ জেতার জন্যই খেলি। সামনে এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট আছে।’
সিলেটের কন্ডিশনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের সেখানে কাজে দেবে। নেদারল্যান্ডস ভালো দল। হয়তো এ ধরনের কন্ডিশনে তারা কম খেলে। কিন্তু ভালো উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের যথেষ্ট। তাই তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’