দীর্ঘদিন ধরে যেসব কনটেইনার বন্দরে পড়ে আছে সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে দ্রুত নিলামে বিক্রি করার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কাস্টমস হাউসগুলোতে নিলাম কার্যক্রম জোরদার করে কনটেইনারজট কমাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গতকাল এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এ নির্দেশনা দেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বন্ড সুবিধার আওতায় আনা মালামাল বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে রাজস্ব বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, আমাদের মূল ফোকাস হতে হবে ব্যবসাবাণিজ্যের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আমদানি বা রপ্তানিকারকের বিন লক না করে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে রক্ষিত অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করা। অহেতুক বিন লক করে সৎ ও কমপ্লায়েন্ট আমদানি-রপ্তানিকারকদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ভ্যাটের আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করে আইনানুগভাবে প্রযোজ্য কর আদায় করতে হবে। যারা সৎভাবে নিয়মকানুন মেনে ভ্যাট প্রদান করেন তাদের ওপর অহেতুক বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা ঠিক নয়। ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে যারা মোটেও ভ্যাট পরিশোধ করেন না তাদের ভ্যাট নেটে আনা এবং যারা ভ্যাট ফাঁকি দেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ভ্যাট আদায় বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, টিআইএন থাকার পরও যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিস দিয়ে আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিন তদন্ত করা হবে। আয়কর আরোপ করে তা আদায় করার জন্য আয়কর আইন অনুযায়ী সব কার্যক্রম গ্রহণ করা এবং প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিটি কর অঞ্চলকে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করার ওপরও জোর দেন তিনি।