চট্টগ্রামের বইমেলা শুরু হয়েছে গত ১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এই ২১ দিনে আশানুরূপ বই বিকিকিনি হয়নি। তবে চট্টগ্রামের প্রকাশকদের দৃষ্টি এখন বইমেলার শেষ সপ্তাহের দিকে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে বইমেলা। চট্টগ্রামে মোট ৭৩টি প্রকাশনী সংস্থা আছে।
নগরের জিমনেসিয়াম মাঠে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগ এবং চট্টগাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের ব্যবস্থাপনায় এই বই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই পাঠক-দর্শকের ঢল নামে। কিন্তু দর্শকের তুলনায় বই বিক্রি অনেক কম। প্রকাশকরা মনে করেন, মাত্র ১০ শতাংশ পাঠক বই কিনছেন। গতকাল শুক্রবারও ২১ ফেব্রুয়ারির বন্ধ হওয়ায় পাঠক-দর্শকের ঢল নামে। এবার চট্টগ্রামের ৭৩টি প্রকাশনী সংস্থা থেকে বিষয়-বৈচিত্রের প্রায় চার হাজার নতুন বই বের হয়েছে। প্রতিদিন মেলায় আসছে নতুন নতুন বই। প্রায় এক লাখ বর্গফুটের মাঠ জুড়ে ১৪০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের স্টল ৭৪টি ও ঢাকার ৪৪টি। অতীতে চট্টগ্রামের বইমেলা ফেব্রæয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হলেও এবার ১ ফেব্রæয়ারি থেকেই শুরু হয়েছিল।
প্রকাশনা সংস্থা শিশু প্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী আরিফ রায়হান বলেন, আমাদের প্রকাশনী থেকে মোট ৩৫টি বই বের হয়। সবগুলো বই মেলায় আনা হয়েছে। তবে দর্শক অনুপাতে বিক্রি কম। আশা করছি, বাকি দিনগুলোতে আশানুরূপ বই বিক্রি হবে।
খড়িমাটি প্রকাশনীর মালিক মনিরুল মনির বলেন, আমার প্রকাশনী থেকে ৫৫টি বই প্রকাশ হয়েছে। এতদিন আশানুরূপ বই বিক্রি হয়নি। সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি বই বিক্রির আশা করছি।
চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু বলেন, প্রতিদিন বিকাল নামতেই প্রচুর সংখ্যক দর্শক আসে। কিন্তু সে হিসাবে বিক্রি কম। পর্যাপ্ত সংখ্যক বই বিক্রি না হলে প্রকাশরা হতাশ হয়ে যাবেন। চট্টগ্রামের প্রকাশনী সংস্থাগুলোও সমৃদ্ধ হবে না। অথচ চট্টগ্রামের প্রকাশনীগুলো থেকেও বিষয় বৈচিত্র মিলিয়ে মানসম্পন্ন বই বের হয়েছে। আমরা পাঠক-দর্শকদের বলব, আপনারা আসুন, বই দেখুন, কিনুন। প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করুন।
জানা যায়, অতীতে চট্টগ্রামে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ এবং ১৬ ডিসেম্বরে ছোট্ট ছোট্ট পরিসরে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বইমেলার আয়োজন করা হতো। এসব বইমেলা থাকত অনেকটা প্রাণহীন। দেখা মিলত না পাঠক-ক্রেতার। নিষ্প্রাণ সেই সব মেলায় অংশ নিত না বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলো। থাকত না পাঠক চাহিদার কাঙ্খিত বই। ব্যবস্থাপনায় থাকত বিশৃঙ্খলা। ২০১৯ সালে জিমনেশিয়াম মাঠে চসিকের উদ্যোগে প্রথমবারের মত বৃহত্তম পরিসরে বইমেলার আয়োজন করে। প্রথম বছরই ১১৫টি প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশগ্রহণ করে। ২০২১ সালে করোনার কারণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও বড় পরিসরে সফল বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিডি প্রতিদিন/এএম