বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘হাসিনার পতন একদিনে ঘটেনি। এর পেছনে অনেক বছরের ত্যাগ ও সংগ্রাম আছে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন, আহত হয়েছেন, অপহৃত হয়েছেন। এরই ফলস্বরূপ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছেন। এ কৃতিত্ব সবার।’ মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়াটাও এক দিনে ঘটেনি। মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিলেন অথবা আহত হয়েছিলেন। অসংখ্য মানুষ আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। তবেই আমরা এটি অর্জন করেছি। এর কৃতিত্বও সবার।’ গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সিনিয়র সাংবাদিক মরহুম মাহফুজ উল্লাহর স্মরণে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন। স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রয়াত মাহফুজ উল্লাহর বড় ভাই ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর স্ত্রী ও তিন সন্তান। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি তাঁর কাছে (মাহফুজ উল্লাহ) অত্যন্ত ঋণী। সবসময় তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। আমার ভুলটা দেখিয়ে দিতেন, আমাকে সামনে পথ দেখাতেন। এ জিনিসগুলো পাওয়ার আমার আর লোক নেই। মাহফুজ উল্লাহকে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ মিস করি। তাঁকে হারানোটা আমাদের জন্য বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, মাহফুজ উল্লাহর মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসা। মানুষের যে পাওনা, সেটাকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন তাঁরা। মাহফুজ উল্লাহ রাজনৈতিক দল করতেন না। তবে তাঁর যে রাজনৈতিক চিন্তা, সেটি নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। এজন্য সবাইকে অনেক বেশি আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ তৈরি করতে আমরা সবাই যেন কাজ করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবসময় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ছিলাম এবং থাকব। চলুন, আমাদের এই ইতিহাসটি দৃঢ়তা, সততা এবং সত্যের সঙ্গে লিখি। আমাদের দেশের পুনর্গঠনের দিকে মনোনিবেশ করি।