রংপুরে চার বছরের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর লাশ সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটি ৪১ দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিল। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
রংপুর : রংপুরের কাউনিয়ায় নিখোঁজের ৪১ দিন পর সেনাবাহিনীর অভিযানে মাদরাসা শিক্ষার্থী দোলা মণির (৪) লাশ সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মধ্য ধর্মেশ্বর মহেশা (বিজলের ঘুণ্টি) গ্রামের আফজাল হোসেনের সেপটিক ট্যাংক থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। দোলা মণি কুর্শা ইউনিয়নের মধ্য ধর্মেশ্বর মহেশা গ্রামের দেলোয়ার মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৪১ দিন আগে শুক্রবার বিকালে দোলা মণি বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে কাউনিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘ ৪০ দিনেও দোলার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তার বাবা দেলোয়ার হোসেন ২৭ ফেব্রুয়ারি কাউনিয়া ও পীরগাছা সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর রংপুর ৭২ ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩০ বেঙ্গল ইউনিটের ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান নিয়নের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি চৌকশ টিম অভিযান পরিচালনা করে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জের ধরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পরে এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার মিয়া বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় নূরুল ইসলাম, সুমন মিয়া ও মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) : মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ফাতেমা আক্তারকে (৬) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষক সাব্বির খানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাব্বির হত্যার দায় স্বীকারও করেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে সাব্বিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের ব্যঙ্গ দিঘির কচুরিপানার নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ফাতেমা ওই গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং রশুনিয়া মাহমুদিয়া নূরানিয়া মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। ধর্ষক সাব্বির খান ওই ইউনিয়নের উত্তর তাজপুর গ্রামের নাহিদ খানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার নিজ গ্রামের ওয়াজ মাহফিল থেকে ফাতেমা নিখোঁজ হয়। ওই মাহফিলে দোকান নিয়ে বসেন সাব্বির। ফাতেমাকে ফ্রিতে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে সাব্বির। এরপর থেকে ফাতেমার আর খোঁজ মিলছিল না। পরে ফাতেমাকে আইক্রিম খাওয়ানোর বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার দুপুরে সন্দেহজনকভাবে সাব্বিরকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। ওইদিন ফাতেমার মা বিলকিস বেগম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাব্বির। ফাতেমার চাচা মো. এরশাদ জানান, সাব্বির একজন মাদকসেবী, তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এদিকে আসামির স্বীকারোক্তির কথা জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ লোকজন গতকাল সকালে সাব্বির খানের বাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে তারা বাড়ির আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন।