রাণীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হয়ে নাটোর লালপুরে রায়হান নামের এক যুবকের খামারে প্রায় ৪ হাজার ৯শ টি কোয়েল পাখির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার পশ্চিম ডেবরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রায়হান একই এলাকার মৃত রনজিত কারিগরের ছেলে।
জানা যায়, কোয়েল পাখির খামার গড়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন আবু রায়হান (৩৫)। চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে প্রথমে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। তবে আশানুরূপ লাভ না হওয়ায় ইউটিউব দেখে শুরু করেন কোয়েল পাখি পালন। তার খামারে আকস্মিকভাবে গত তিনদিনের ব্যবধানে রানীক্ষেত রোগে প্রায় ৪ হাজার ৯শ টি কোয়েল পাখি মারা গেছে। তার খামারের ভেতর কোয়েল পাখি মরে স্তুুপ হয়ে পড়ে আছে। সেগুলো ঝুড়িতে উঠাচ্ছেন রায়হান ও তার ছেলে সাকিব। ওই মৃত পাখিগুলো বস্তায় ভরে রাখেন। পরে বস্তাগুলো মাটিতে গর্ত করে পুঁতে রাখার প্রস্তুতিও নিয়েছে তারা।
খামারি আবু রায়হান বলেন, গত তিন মাস আগে ৫ হাজার পাখির বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেছিলাম। দু’মাসের মধ্যে পাখি ডিম দিতে শুরু করে, প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ডিম উৎপাদন হচ্ছিলো। গত ৭ মার্চ থেকে খামারে শুরু হয় বিপর্যয়। হঠাৎ কিছু পাখি ঝিমিয়ে পড়ে ও মারা যেতে থাকে। উপজেলা পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগ করলেও পাখিগুলোর শেষরক্ষা হয়নি। একে একে সব কোয়েল মারা যায়। শুধু একশ পাখি বেঁচে আছে। এগুলোও অসুস্থ থাকায় বিক্রি করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার নিয়ে এই খামার গড়ে তুলেছি। পাখি বিক্রির মাধ্যমে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও এখন দুশ্চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে এই রোগকে ‘রানীক্ষেত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি এক ধরনের সংক্রামক ভাইরাস। যা খামারের ভেতর দ্রুত ছড়ায়।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ