দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে উঁচু-নিচু ও গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট হয়ে মহাসড়কের প্রায় ৬৬ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থা একেবারেই বেহাল। এখান দিয়ে যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলছে। সন্ধ্যার পর মহাসড়কের এসব এলাকা দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। মহাসড়কটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, দিনাজপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, হিলি স্থলবন্দর থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়গামী যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া এ সড়ক দিয়েই মধ্যপাড়া কঠিন শীলা খনি, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এবং কয়লাভিত্তিক তাপবিদুৎ কেন্দ্রে যাতায়াত করা হয়।
যানবাহনের চালক, পথচারী ও স্থানীয়রা জানায়, এ মহাসড়কের ফুলবাড়ী ঢাকা মোড় থেকে দক্ষিণে আম্রবাটি মাদরাসা মোড়, লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে জয়নগর বাজার, চি পুর বাজার থেকে দুর্গাপুর ঢিবি, বিরামপুর পৌর শহরের ঢাকা মোড়, মির্জাপুরের ব্র্যাক চিলিং সেন্টার থেকে ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি পর্যন্ত সড়কের অনেক স্থানে খুব বেশি উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। পিচ উঠে কোথাও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা ফুলবাড়ী ঢাকা মোড় থেকে পশ্চিম দিকে রাঙামাটি হয়ে বারাইহাটের কিছু অংশ। মোটরসাইকেল চালক সবুর চৌধুরী, ট্রাকচালক আব্বাস আলী বলেন, রাস্তাটি দেবে গিয়ে উঁচু-নিচু ও নালায় পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভারলোড গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কে এরকম হয়ে থাকে। এর পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থাকে। কাজ শেষে সড়ক সংস্কারে জন্য প্রতিটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জন্য তিন বছর ডিপিএল (ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড) থাকে। এ সময়ে মহাসড়কে এ রকম কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কার করবে। এ সড়কে আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে কাজ করেছে। অনেকেরই চুক্তি শেষে হয়েছে। কিছু জায়গায় চুক্তির সময় আছে। সরেজমিন দেখে ঠিকাদারের মাধ্যমে সেই জায়গাগুলো সংস্কার কাজ করা হবে। নইলে সড়ক বিভাগ থেকে শিগগিরই সংস্কার কাজ করা হবে।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে গোবিন্দগঞ্জ থেকে দিনাজপুর ১০৬ কিলোমিটার ৪২ ফুট প্রশস্তকরণে ৮৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। রাস্তাটি ৯টি গুচ্ছের মাধ্যমে ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে নির্মাণকাজ শুরু করে। সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়।