দিনাজপুরে কাঁকড়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। এ কারণে চিরিরবন্দরের দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, ভিয়াইল ও পুনট্টি ইউনিয়ন বিভক্তকারী কাঁকড়া নদীর ওপর ভিয়াইলে একটি সেতু নির্মাণের। চিরিরবন্দর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের অক্টোবরে ১৭৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়। কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের এপ্রিলে। কিন্তু ২০২৫ সালেও সেতুর ৪০ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। এর আগে নির্মাণের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়। মাঝে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৩ সালের জুনে আবার কাজ শুরু হয়। কিন্তু একই বছর ১৫ জুলাই সেতুর চার নম্বর ক্রস গার্ডার নদীতে ভেঙে পড়ে। এরপর কাজ আবারও বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে সেতুটি সেভাবেই পড়ে আছে।
চিরিরবন্দরের ভিয়াইল ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কাঁকড়া নদী। এর পশ্চিম পাশে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, ইউপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও নদীর পূর্ব-উত্তরে চিরিরবন্দর উপজেলা শহর। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষাকালে নৌকায় পারাপার হতে হয়। নদীর পূর্ব পাশে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে গেলে মানুষকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। নদীর পশ্চিম পাশের মানুষ উপজেলা শহর কিংবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ঘুরতে হয়।
শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, আফসার আলীসহ স্থানীয়রা জানান, ভিয়াইল ও পুনট্টি ইউনিয়নের মানুষের চলাচলে, কৃষিপণ্য পরিবহনে ঝুঁকি নিয়ে বর্ষায় নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোয় পার হতে হয়। বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষকে। ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময় ফসল ঘরে আনতে কষ্ট হয়। ভ্যানচালক সুবল রায় বলেন, ভ্যান নিয়ে খুব কষ্ট করে নদী পার হতে হয়। শীতকালে নদীতে পানি না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হওয়া গেলেও বর্ষাকালে খুব সমস্যা হয়। ভিয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাক শাহ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেছি কাজ শেষ করার জন্য। উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদার রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে সেতুটির প্রায় ৪০ ভাগ কাজ শেষ করতে পারেননি ঠিকাদার। তাই নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হচ্ছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াটি শেষ হলে দ্রুত বাকি অংশের কাজ শেষ হবে।