কিশোরগঞ্জ শহরে যানজট নিরসন ও হাওরে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য ৭৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইপাস নির্মাণসহ দুই প্রান্তের সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হয় পাঁচ বছর আগে। মূল কাজ শুরুর আগেই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় দুবার। এখন তৃতীয় দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। তারপরও দায়সারাগোছের কাজ চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে কাজে ধীরগতির কারণে সড়কটি এখন সর্বসাধারণের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কিশোরগঞ্জ-চামটাঘাটের সাড়ে ১৯ কিলোমিটার এবং ছয়না-চৌদ্দশত বাইপাসের সড়ক সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ হয় ২০২০ সালের ২৪ মার্চ। মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের ৩০ জুন। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন। তৃতীয় দফা সময় বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ জুন। ৭৩১ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের এ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৫২২ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত ৫০ ভাগ কাজ শেষ বলে দাবি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের।
পুরো প্রকল্প এলাকা ঘুরে কোথাও কোনো সাইনবোর্ড চোখে পড়েনি। কেউ বলতে পারছেন না কোথায় কী পরিমাণ সামগ্রী দিতে হবে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে যেনতেনভাবে কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। করিমগঞ্জ উপজেলার কিরাটন এলাকার ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল হক জানান, প্রথম দিকে কাজের মান ভালোই ছিল। তবে বর্তমানে যেভাবে কাজ হচ্ছে তা একেবারে নিম্নমানের। সঠিকভাবে রোলার বা পানির ব্যবহারও হচ্ছে না। এগুলো অল্পদিন পরেই ভেঙে গিয়ে ভোগান্তি বাড়াবে। একই এলাকার নুরুজ্জামান বলেন, নির্মাণসামগ্রী এত নিম্নমানের যে পা দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙে যাচ্ছে অনেক সুরকি। ভাটিয়া মোড়লপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী জানান, এরকম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ সাধারণত পাথর দিয়ে করার কথা। কিন্তু এই রাস্তার কাজে ব্যবহার হচ্ছে খুবই নিম্নমানের পুরোনো ইট। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের ব্রাদার্স লিমিটেডের সার্ভেয়ার আবদুর রাশিদ বলেন, সাইনবোর্ড আগে ছিল। এখন এক সাইটে কাজ চলমান থাকায় সাইনবোর্ডটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
তাহের ব্রাদার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানের দাবি, সড়কে ব্যবহৃত সামগ্রী ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেই ব্যবহার করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। মেয়াদ বাড়ানো হলে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে এর সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামটাঘাট জেলা মহাসড়ক যথাযথমানে উন্নীতকরণসহ ছয়না-যশোদল-চৌদ্দশত বাজার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন করা হয়।