জেলার বাউফলে ‘অপারেশন ডেভিল হান্টে’ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেত্রীর ছেলেকে আটকের পর বিএনপি নেতাদের সুপারিশে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।
বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, আটক শাকিল হাওলাদারকে (৩০) মঙ্গলবার বিকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় তাকে থানায় এনেছিলাম। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতারাও তাকে ভালো বলে সুপারিশ করেছেন। তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে টাকার বিনিময়ে শাকিলকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অমূলক।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বাংলাদেশি সাংবাদিক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন মঙ্গলবার রাতে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘পটুয়াখালীর বাউফল থানার ওসি ২ লাখ ও এসপি ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রেশমার ছেলে ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি শাকিলকে গ্রেপ্তারের ১০ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে! ওসি কামাল হোসেন গেল ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী। তার বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।’
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিল হাওলাদারের মা খায়রুন নাহার রেশমা (৫০) বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যও ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের আগে শাকিল ও তার মায়ের দাপটে অতিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী। পট পরিবর্তনের পর মা চুপসে গেলেও বিএনপির স্থানীয় কতিপয় নেতার সঙ্গে মিলে দাপট অব্যাহত রেখেছে শাকিল। শৌলা গ্রামের রশিদ হাওলাদারের ছেলে মো. মনিরুল ইসলামকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সোমবার বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
শাকিলকে ছেড়ে দেওয়ার মুচলেকায় উল্লেখ করা হয় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা শাকিলকে দলের কর্মী হিসেবে চিনে ও সত্যায়ন করে। স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সুপারিশে শাকিল থানা থেকে মুক্ত হতে ইচ্ছুক। ভবিষ্যতে বিএনপির প্রতি অনুগত থেকে সব প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ওই মুচলেকায় স্বাক্ষর করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম মনজুর আলম, সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জি এম নিউটন ও কর্মী মো. রিয়াজ রহমান। জি এম নিউটন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোটখাটো বিষয়। একই এলাকার মানুষ। তাই তারা ছাড়িয়ে নিয়েছেন।’
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এ প্রতিনিধি বহুবার তার সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। শাকিলের মা কালাইয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা সম্পাদিকা খায়রুন নাহার রেশমার মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।