নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রায় পাঁচ বছর ধরে পানিতে ডুবে রয়েছে সড়কটি। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে ফতুল্লার বক্তাবলী যেতে ব্যবহার হয় এ পথ। বছরের বেশির ভাগ সময় এ রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলারও কোনো উপায় থাকে না। এনায়েতনগর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের একই অবস্থা। এর মধ্যে মুসলিমনগরের সড়কটিই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন নজরেই আসছে না বিষয়টি। প্রতিবার নির্বাচনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দেন বিজয়ী হলে সড়কটি জলাবদ্ধতামুক্ত করার ব্যবস্থা নেবেন। ভোটের পর তাদের কারও কোনো খবর থাকে না। ফলে বছরজুড়েই দুর্ভোগ সঙ্গী করে বসবাস করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
আবদুর রশিদ নামে এক মুদি দোকানি বলেন, এ রাস্তা দিয়ে আমরা চলাফেরা করতে পারি না। প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাস্তাটি পানিতে ডুবে রয়েছে। এলাকার কেউ মানুষ মারা গেলে লাশ নিয়ে বের হওয়ার উপায় থাকে না। নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে পারি না। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বলেছিলেন রাস্তা করে দেবেন। তিনি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এখানে এসে উঁকিও দেননি। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানও কোনো খোঁজখবর নেননি। মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ নামে স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন- সড়কে পানি জমে থাকায় মসজিদে যেতে পারি না। বাড়ি ঘরে থাকতে কষ্ট হয়। কিছুদিন পরপর বসতঘরে পানি উঠে যায়। রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অনেকে পড়ে যান। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কোনো খবর নেই। নির্বাচনের সময়ই শুধু তাদের দেখা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তারা এলাকার জন্য কিছুই করেন না। এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বর সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই এলাকাটি নিচু হওয়ার কারণে সবখানের পানি এখানে জমে থাকে। বিগত সরকারের সময়ে সড়কটির উন্নয়ন নিয়ে একবার আলোচনা করেছিলাম। এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রধান বলেন, এই এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে বড় প্রকল্প দরকার। ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প দিয়ে এর সমাধান হবে না। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন, আশা করছি শিগগিরই মুসলিমনগরবাসীর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘব হবে।