চুয়াডাঙ্গায় পড়ে থাকা জমিতে সরিষার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তারা বলছেন, সরিষা আবাদে কোনো চাষ বা আগাছা দমনের প্রয়োজন হয় না। বীজ বপন ছাড়া বাড়তি খরচ নেই বললেই চলে। এতে পরিবারের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় হয়। কম খরচে লাভবান হওয়ায় অন্য কৃষকও সরিষা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ সময়ে জেলার সরিষা খেতগুলোয় ছুটে আসেন মৌসুমি মৌয়ালরাও।
আলমডাঙ্গা উপজেলার মাজুগ্রামে দেখা যায় দিগন্তজোড়া হলুদের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ সরিষার হলুদ খেত। মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখর এসব মাঠ। ওই গ্রামের চাষি উজ্জল হোসেন জানান, রোপা আমন ঘরে তোলার পর মাজুগ্রামের মাঠ প্রায় তিন মাস পরিত্যক্ত পড়ে থাকত। কয়েক বছর আগে তাঁরা এ সময়ে সরিষা আবাদ শুরু করেন। তাঁরা বিঘাপ্রতি ৪-৫ মণ সরিষা পাচ্ছেন। এতে পরিবারের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে। একই এলাকার আরেক চাষি আজিজুল হক জানান, সরিষা আবাদে কোনো চাষ দেওয়া বা বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। রোপা আমন ধান ঘরে তোলার পর বীজ ছিটিয়ে দিলেই গাছ হয়ে যায়। দু-তিন বার সার দিলেই সরিষা ঘরে তোলা যায়। কৃষক বলছেন, ১ বিঘা জমিতে দেড় কেজি সরিষা বীজ ছিটিয়ে দিলেই গাছ হয়ে যায়। মাজু ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর তাঁর এলাকাতেই ১৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। মাঠে গেলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। কৃষক পরিত্যক্ত জমিগুলো ব্যবহার করে দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এ বছর জেলায় ৩ হাজার ৩৭২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কম খরচে লাভবান হওয়ায় অন্য কৃষকও সরিষা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আগামীতে সরিষা চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ ভোজ্য তেলে অবদান রাখবেন এ অঞ্চলের চাষিরা।