আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দখলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার রাজবাড়ী ছোট চৌগ্রাম খাল। বড় চৌগ্রাম রাজবাড়ী খাল থেকে ছোট চৌগ্রাম পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার খাল দখল করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৭ থেকে ৮টি স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। খালের মুখ বন্ধ করে একাধিক পুকুর খনন করে খাল অকেজো করেছে ওই মহল। খাল দখল করে পুকুর খনন করায় জলাবদ্ধতার শিকার এলাকাবাসীর শত শত একর কৃষি জমি। স্থানীয় কৃষক আবদুল মান্নান প্রামাণিক বলেন, এক যুগ হলো দফায় দফায় খাল দখল করেছে আওয়ামী লীগের নেতারা। জলাবদ্ধতায় এসব এলাকায় চাষাবাদ করতে পারে না কৃষকেরা। এখন আর বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচল করতে পারে না। কৃষকদের আমন ধান ঘরে আনতে অনেক টাকা খরচ হয়। ওই গ্রামের আরেক কৃষক শরাফত শাহ বলেন, আগে নৌকায় সিংড়া যেতাম, এখন অনেক জায়গা দখল হয়ে গেছে। পুকুর খননের কারণে জমিতে আবাদ ঠিকমতো হয় না। এখন বর্ষা মৌসুমেও মাছ পাওয়া যায় না। এখন কচুরিপানায় ভরে গেছে, মশার উপদ্রব বেড়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, খাল দখল হওয়ায় মাছ পাওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের লোকজন খাল দখল করে জোরপূর্বক পুকুর করে রেখেছে। এই খাল দিয়ে এক সময় নৌকাবাইচ হতো। এখন ঐতিহ্য আর নাই। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোকাদ্দেস আলী, বাবু চন্দ্রার, আলাউদ্দিন, ফারুক, জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খালের অংশ দখল হয়ে গেছে শুনেছি। স্থানীয়রা আবেদন করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বিএডিসি সিংড়া জোনের সহকারী প্রকৌশলী মানিক রতন জানান, ছোট চৌগ্রাম খালের কিছু অংশ দখল হয়ে গেছে। বিষয়টি শুনেছি। তবে খাল খননের কোনো আবেদন দেয়নি এলাকাবাসী। আবেদন দিলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, খাল কেউ দখল করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদ দখলমুক্ত করা হবে। কোনো জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না। যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।