কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায় বৃষ্টির মতো ঝরা শিশিরের দাপটে বিপর্যস্ত দিনাজপুরের গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের। তীব্র শীতে হাত-পা ঝিনঝিন করে। তার ওপর হালকা বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু জীবন তো থেমে নেই। পেটের তাগিদে খেটে খাওয়া মানুষ কাকডাকা ভোরে ছুটে চলেছেন কাজের সন্ধানে। শীতে শরীর কাবু করতে পারে, কিন্তু মনের জোর কাবু করতে পারে না। জীবিকার জন্য এ যেন অদম্য সংগ্রাম। আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের দিনমজুর হারুন ও মামুদপুর গ্রামের শাহজাহান আলী বলেন, ‘হামারগিলাক ইটভাটায় কাম করিতে খুব ভোরেই যেতে হয়। ঠান্ডাত কাদায় হাত দিবার সময় মনে হয় শীত যেন হাড্ডির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। কাজ তো আর হারা বন্ধ করি রাখিবার পারি না। কাজ-কাম না করিলে সংসার চলিবে কেমন করি, আর খামোইবা কী?’ চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউপির নান্দেড়াই ও নশরতপুর ইউপির নশরতপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, কনকনে ঠান্ডায় পোশাক খুলতে ইচ্ছে করে না। সকালে সাইকেল চালিয়ে কাজে যেতে শীতের কামড়ে শরীর কাবু করে ফেলে। রানীরবন্দর বাসস্ট্যান্ডে রিকশাভ্যান চালক রবিউল ইসলাম ও সাদেক আলী জানান, শীতে এমনিতেই যাত্রী কম। তার ওপর কুয়াশায় রাস্তাঘাট ফাঁকা।
রাজমিস্ত্রি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, কদিন থেকেই শীত যেন হাঁড় ভেঙে দিচ্ছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, কুয়াশা আর শীত শুধু মানুষের জীবনকেই দুর্বিষহ করছে না। কৃষিতেও এর প্রভাব পড়েছে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বুধবার সকাল ৬টায় দিনাজপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।