উত্তরাঞ্চলে রেলের শহর হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুর। পুরো উপজেলা শহর ও আশপাশের অনেক এলাকা রেলওয়ের অধীনে। রেলের জায়গা ও কোয়ার্টার দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দখলদাররা। সম্প্রতি সৈয়দপুর রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। বারবার জায়গাগুলোতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার পর পুনঃদখল নিয়ে গড়ে তোলা হয় দোকানপাট। অবৈধভাবে সেখানে চলে ব্যবসাবাণিজ্য। এতে ট্রেন চলাচল হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। এবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের পর ব্যারিয়ার তৈরি করে দিয়েছে। তবু আবার দখলে নেমেছে দুর্বৃত্তরা। তারা ব্যারিয়ারের ভিতর-বাইরে গড়ে তুলছে স্থাপনা। চলাচলকারী লাইনের ওপর বসাচ্ছে দোকান। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনার কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরে রয়েছে রেলওয়ের ৮০০ একর জমি। ইতোমধ্যে ১৫ দশমিক ২১৮৩ একর জমি সিএস, এসএ, আরএস, বিএস জরিপের সময় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত ও নামজারি হয়েছে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে ৪২৭ একর জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ের উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই/কার্য) শরিফুল ইসলাম বলেন, যেসব জায়গায় দখল হয়েছে, এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে হয়েছে নিয়মিত মামলা। বেদখল সম্পত্তি রক্ষায় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে জনবল সংকট রয়েছে রেলের। সৈয়দপুর উপজেলা শহরের সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, রসুলপুর, ইসলামবাগ, বাঁশবাড়ি এলাকায় রেলওয়ে কারখানার কর্মচারীদের জন্য রয়েছে কোয়ার্টার। এসব কোয়ার্টার দখলে নেওয়ারও প্রতিযোগিতায় নেমেছেন কিছু প্রভাবশালী। কোয়ার্টার আবার বেচাকেনাও চলছে দেদার। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। জানা যায়, ১৮৭০ সালে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা স্থাপন হয়। কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার ৪৮৮টি বাংলো, কোয়ার্টার ও বাসাবাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে অফিসার্স বাংলো ৩১টি, সাব-অর্ডিনেট বাংলো ১৩৯টি, দুই কক্ষবিশিষ্ট বাসা ৭১১টি এবং এক কক্ষবিশিষ্ট বাসা ১ হাজার ৬০৭টি। ৯০০-এর মতো বাংলো, সাব অর্ডিনেট বাংলো ও বাসা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীরা নিজ নিজ নামে বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। প্রায় ৩০০ বাংলো ও কোয়ার্টার বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রেলওয়ের অবশিষ্ট বাংলো ও কোয়ার্টার অবৈধভাবে দখলে নিয়ে বসবাস করছে বহিরাগতরা।