বকেয়া বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট এবং নারী শ্রমিকদের প্রসূতিকালীন পাওনা পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরে ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় দুই শতাধিক শ্রমিক এ বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিকরা জানান, তাদের অনেক সহকর্মী ২০০৬ সাল থেকে বা তারও আগে থেকে এ কারখানায় চাকরি করছেন। ৭ মাস ধরে বকেয়া বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিটও পাননি। অনেক সহকর্মীর কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকাও পাওনা রয়েছে। বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বারবার মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েও বেতন পরিশোধ করছে না। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম জানান, এক বছরের বেশি আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডার্ড কম্পোজিট টেক্সটাইলের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, নারী শ্রমিকদের প্রসূতিকালীন পাওনা এখনো পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সরকার ইতোমধ্যে মালিককে সুদমুক্ত ১৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। লোন পাওয়ার এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো শ্রমিক ও স্টাফদের টাকা দেয়নি মালিকপক্ষ। ফলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শফিউল আলম আরও বলেন, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। কারখানাটি বন্ধ হওয়ার দিন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন ও বন্ধ সময়ের আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর শ্রম আইনের সুবিধা থেকে কমিয়ে এনে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। সে অনুযায়ী সরকার থেকে দেওয়া ১৩ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা রয়েছে। এর পরেও ১৪ কোটি টাকা পাওনা থাকবে শ্রমিকদের। তিনি আরও জানান, প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাময়িক বিলম্ব হয়েছে। খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।